নড়াইলের কালিয়া উপজেলার শামসুন্নাহার কিন্ডারগার্টেন স্কুলে ক্লাস চলাকালীন হঠাৎ ঝড়ো হাওয়ায় শ্রেণিকক্ষের ওপর একটি নারিকেল গাছ উপড়ে পড়ে দুই শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়েছে।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) সকালে উপজেলার ছোট কালিয়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
আহতরা হলেন, ছোট কালিয়া গ্রামের নুর জামালের ছেলে সিয়াম শেখ (১১) এবং রামনগর গ্রামের জহির শেখের ছেলে মাজেদুল ইসলাম (৯)।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ছোট কালিয়া এলাকার শামসুন্নাহার কিন্ডারগার্টেন স্কুলে ক্লাস চলাকালীন হঠাৎ ঝড়ো হাওয়া শুরু হয়। এ সময় স্কুল প্রাঙ্গণের পাশে থাকা একটি ঝুঁকিপূর্ণ পুরনো নারিকেল গাছ উপড়ে শ্রেণিকক্ষের উপর পড়ে। এতে শ্রেণিকক্ষে থাকা শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং দুই শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়।
পরে স্থানীয়রা দ্রুত আহতদের উদ্ধার করে কালিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে সিয়াম শেখের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। খবর পেয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
কালিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ জিন্নাতুল ইসলাম জানান, “আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসার বিষয়ে স্কুল কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আহতদের চিকিৎসার সকল ব্যয় স্কুল কর্তৃপক্ষকে বহন করতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি স্কুলের সকল কাগজপত্র তলব করা হয়েছে। কোনো গাফিলতি প্রমাণিত হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ঘটনার পর স্কুল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ তুলেছেন অভিভাবক ও এলাকাবাসী। তাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে গাছটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকলেও তা অপসারণ বা ছাঁটাইয়ের কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্কুল কর্তৃপক্ষ সন্তোষজনক কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেনি। কেন আগেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, সে প্রশ্নেরও স্পষ্ট জবাব মেলেনি।
এদিকে অভিভাবকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সময়মতো উদ্যোগ নিলে এমন দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব ছিল। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।”
