লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার দইখাওয়া হাটে অতিরিক্ত টোল আদায়ের সংবাদ সংগ্রহ ও ভিডিও ধারণ করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন দুই সাংবাদিক। এ ঘটনায় অভিযুক্ত বিএনপি নেতা নুর ইসলাম ও সাবেক ছাত্রদল নেতা মজিবর রহমানসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে হাতীবান্ধা থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
শুক্রবার (১ মে) বিকেলে উপজেলার দইখাওয়া হাটে এই বর্বরোচিত হামলার ঘটনা ঘটে। আহত সাংবাদিকরা হলেন, দৈনিক মানবকণ্ঠের লালমনিরহাট প্রতিনিধি আসাদুজ্জামান সাজু ও আনন্দ টিভির প্রতিনিধি আব্দুর রহিম। হামলার ঘটনায় শুক্রবার রাতেই সাংবাদিক সাজু বাদী হয়ে হাতীবান্ধা থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।
স্থানীয় ও ভুক্তভোগী সাংবাদিক সূত্রে জানা গেছে, দইখাওয়া হাটে নির্ধারিত তালিকার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি টোল আদায় করা হচ্ছিল এমন তথ্যের ভিত্তিতে সেখানে সংবাদ সংগ্রহে যান ওই দুই সাংবাদিক। হাটে দেখা যায়, ছাগল কেনাবেচায় ১১০ টাকার নির্ধারিত টোলের স্থলে ৩০০ টাকা এবং ১২১ টাকার পুরাতন সাইকেল কেনাবেচায় ৪০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে।
এই অতিরিক্ত টোল আদায়ের ভিডিও ধারণ করতে গেলে গোতামারী ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক নুর ইসলাম এবং ওই ইউনিয়নের সাবেক ছাত্রদল সম্পাদক মজিবর রহমানের নেতৃত্বে একদল লোক সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হন। তারা সাংবাদিক আসাদুজ্জামান সাজুকে মারধর করে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি ছিনিয়ে নেয়। এসময় তাকে উদ্ধারে এগিয়ে এলে সাংবাদিক আব্দুর রহিমকেও লাঞ্ছিত করা হয়। পরে ফোন ফেরত চাইলে তাদের আবারও প্রহার করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনার একটি ভিডিও ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। প্রেসক্লাব লালমনিরহাটের আহ্বায়ক আনোয়ার হোসেন স্বপন বলেন, অতিরিক্ত টোল আদায়ের খবর সংগ্রহ করা কোনো অপরাধ নয়। এই হামলা স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর আঘাত। আমরা অবিলম্বে হামলাকারীদের গ্রেফতারের দাবি জানাই।
লালমনিরহাটের সিনিয়র সাংবাদিক এস. আর শরিফুল ইসলাম রতন বলেন, হামলাকারীরা যত ক্ষমতাধরই হোক, তাদের আইনের আওতায় আনতে হবে। অন্যথায় সাংবাদিক সমাজ কঠোর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত বিএনপি নেতা নুর ইসলামের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে হাতীবান্ধা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোঃ মোশাররফ হোসেন বলেন, সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক। আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখছি। তদন্তে দোষী সাব্যস্ত হলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে হাতীবান্ধা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রমজান আলী জানান, সংবাদ পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিলো। আহত সাংবাদিক আসাদুজ্জামান সাজু বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। মামলা নাম্বার -০২। আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।