তামিলনাড়ুতে নতুন করে নির্বাচন দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন জোহো কর্পোরেশনের সহ-প্রতিষ্ঠাতা শ্রীধর ভেম্বু। বিধানসভা নির্বাচনে অভিনেতা-রাজনীতিবিদ বিজয় থালাপতির দল তামিলাগা ভেট্ট্রি কাজাগম (টিভিকে) সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ার পরই তার এই মন্তব্য সামনে আসে।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
তামিলনাড়ুর বাসিন্দা ভেম্বু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, সংখ্যার হিসাব মেলানো কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। যেভাবেই সরকার গঠিত হোক না কেন, সেটি রাজনৈতিক চাপ ও টানাপোড়েনের কারণে স্থিতিশীল নাও হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, তামিলনাড়ুর মানুষ আরও ভালো কিছু প্রাপ্য। তাই তার মতে, রাষ্ট্রপতির শাসন জারি করে নতুন করে নির্বাচন করাই হতে পারে উত্তম সমাধান। তবে এবার ভোটে কালোটাকার প্রভাব কঠোরভাবে দমন করা জরুরি, যাতে প্রকৃত জনসমর্থনের চিত্র স্পষ্টভাবে বোঝা যায়।
ভেম্বু বলেন, আমার মনে হয়, বিজয় বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ফিরে আসবেন। যদি ডিএমকে ও এআইএডিএমকে সেটা ঠেকাতে চায়, তাহলে তারা একসঙ্গে লড়তে পারে। বিজেপির একাই নির্বাচন করা উচিত। যদিও তাতে শূন্য আসনও পেতে পারে। তামিলনাড়ুতে বিজেপির জন্য এটি নতুনভাবে শুরু করার সময়। জনগণকে আবার সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ দিতে হবে।
মাত্র দুই বছর আগে গঠিত বিজয়ের দল টিভিকে গত ২৩ এপ্রিল অনুষ্ঠিত বিধানসভা নির্বাচনে ২৩৪টির মধ্যে ১০৮টি আসনে জয় পায়। তবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ১১৮ আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে দলটি এখনো ১০ আসন পিছিয়ে রয়েছে।
সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সমর্থন জোগাড়ের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন অভিনেতা-রাজনীতিবিদ বিজয় থালাপতি। এ লক্ষ্যে তিনি ইতোমধ্যে কংগ্রেসের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন বলে জানা গেছে। নির্বাচনে কংগ্রেস পাঁচটি আসনে জয় পেয়েছে। এছাড়া বিদুথালাই চিরুথাইগাল কাচ্চি (ভিসিকে), ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিআই) এবং সিপিআই (এম)—প্রতিটি দলই দুটি করে আসন পেয়েছে।
সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, টিভিকে নেতারা এআইএডিএমকের প্রধান এডাপ্পাড়ি কে. পালানিস্বামীর সঙ্গে চেন্নাইয়ের তার বাসভবনে বৈঠক করেছেন। একই সঙ্গে বিজেপির মিত্র দল পাট্টালি মাক্কাল কাচ্চির (পিএমকে) কাছেও সমর্থন চেয়েছে টিভিকে, যাদের ঝুলিতে রয়েছে চারটি আসন।
অন্যদিকে, বুধবার বিজয় তামিলনাড়ুর গভর্নর আর. এন. রবির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সরকার গঠনের দাবি জানান। তবে এখনো পর্যন্ত তাকে সরকার গঠনের জন্য আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানানো বা শপথ গ্রহণের বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।