তামিলনাড়ুর রাজনৈতিক নাটকে নতুন মোড় নিয়েছে অভিনেতা-রাজনীতিক বিজয়–এর সরকার গঠন প্রসঙ্গ। সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রয়োজনীয় সমর্থন দেখাতে না পারায় তাকে এখনই সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানাচ্ছেন না রাজ্যপাল আরএন আর্লেকার। ফলে শনিবার শপথ নেওয়ার সম্ভাবনাও আপাতত বাতিল হয়েছে।
রাজ্যপালের দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ২৩৪ সদস্যের বিধানসভায় সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ১১৮ জন বিধায়কের সমর্থন। তবে বিজয়ের দল টিভিকে বর্তমানে ১১৬ জন বিধায়কের সমর্থন নিশ্চিত করতে পেরেছে, যা সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য দুই কম।
সূত্র বলছে, বিদুথালাই চিরুথাইগাল কাচ্চি (ভিসিকে), এএমএমকে এবং আইইউএমএলের এক বিধায়কের সমর্থন পাওয়ার জন্য জোর আলোচনা চালিয়েও শেষ পর্যন্ত প্রয়োজনীয় সমর্থন জোগাড় করতে পারেননি বিজয়। বিশেষ করে ভিসিকে ও আইইউএমএলের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক সমর্থনের চিঠি দিতে না পারায় জটিলতা আরও বেড়েছে।
পরে আইইউএমএল এক বিবৃতিতে জানিয়ে দেয়, তারা টিভিকে নেতৃত্বাধীন জোটের অংশ নয়। অন্যদিকে টিটিভি দিনাকরণের এএমএমকেও রাজ্যপালকে চিঠি দিয়ে জানিয়ে দিয়েছে যে তারা এআইএডিএমকের পক্ষেই সমর্থন দেবে।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজ্যপাল আর্লেকারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সরকার গঠনের দাবি জানান বিজয়। তিনি দাবি করেন, তার পক্ষে ১১৮ জন বিধায়কের সমর্থন রয়েছে। তবে রাজ্যপাল স্পষ্ট জানিয়ে দেন, প্রয়োজনীয় সমর্থনের লিখিত প্রমাণ ছাড়া সরকার গঠনের আমন্ত্রণ দেওয়া সম্ভব নয়।
নির্বাচনে বিজয়ের দল তামিলাগা ভেট্রি কাজাগম (টিভিকে) ১০৮টি আসনে জয় পেয়ে তামিল রাজনীতিতে বড় চমক সৃষ্টি করে। ডিএমকে ও এআইএডিএমকের দীর্ঘ ৬২ বছরের আধিপত্য ভেঙে প্রথম নির্বাচনে এমন ফল করলেও সরকার গঠনের সমীকরণ এখনো অনিশ্চিত।
এদিকে কংগ্রেস দল ডিএমকের সঙ্গে জোট ভেঙে বিজয়ের শিবিরে যোগ দিয়ে পাঁচটি আসন এনে দেয়। তবে শর্ত ছিল, বিজেপির মতো ‘সাম্প্রদায়িক দল’-এর সঙ্গে কোনো জোট করা যাবে না।
রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে ডিএমকে ও এআইএডিএমকের সম্ভাব্য সমঝোতা নিয়েও জল্পনা তৈরি হয়েছিল। যদিও শেষ পর্যন্ত তা বাস্তবায়িত হয়নি।
বিজেপি অবশ্য পুরো পরিস্থিতিতে নিজেদের কোনো ভূমিকা নেই বলে দাবি করেছে। দলটির রাজ্য মুখপাত্র নারায়ণ থিরুপাথি বলেছেন, “এটি একটি বিভক্ত জনাদেশ। বিজয় যদি সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করতে পারেন, তাহলে সাংবিধানিকভাবেই রাজ্যপাল তাকে সরকার গঠনের সুযোগ দেবেন।”