‘আমার পুলিশ, আমার দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’— এ প্রতিপাদ্য নিয়ে আজ রোববার (১০ মে) থেকে শুরু হচ্ছে চারদিনব্যাপী পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬। এবারের আয়োজনের সবচেয়ে আলোচিত বিষয়, প্রথমবারের মতো এ অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
তবে পুলিশ বাহিনীর সবচেয়ে বড় এ আয়োজনের শুরুতেই এসেছে বড় পরিবর্তন। কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে দেওয়ার কথা থাকলেও এবার ‘বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম)’ ও ‘রাষ্ট্রপতির পুলিশ পদক (পিপিএম)’ প্রদান স্থগিত করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এ বছর বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে মোট ১০৯ জন পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্যকে পদকের জন্য মনোনীত করা হয়েছিল। কিন্তু পুলিশ সদর দপ্তর থেকে পাঠানো তালিকায় অস্বচ্ছতা এবং বিতর্কিত সদস্যদের নাম থাকায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পদক প্রদান কার্যক্রম স্থগিত করে।
জানা গেছে, মনোনীতদের মধ্যে অন্তত ১১ জন অতীতেও আওয়ামী লীগ (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সরকারের আমলে পদক পেয়েছিলেন। তাদের মধ্যে একজন কর্মকর্তা দুইবার পদক পেয়েছেন বলেও তথ্য রয়েছে। বিষয়টি ঘিরে পুলিশ বাহিনীর ভেতরেও ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়।
এ বিষয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি (অপরাধ ও অপস) খন্দকার রফিকুল ইসলাম বলেন, পুলিশ সপ্তাহের প্রথম দিনে যে পদক দেওয়ার কথা ছিল, সেটি আপাতত হচ্ছে না। পরে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে আরও জানা গেছে, সরকারের ব্যয়সংকোচন নীতির কারণে এবারের আয়োজন সীমিত করা হয়েছে। আগে সাতদিনব্যাপী হলেও এবার পুলিশ সপ্তাহ চলবে চারদিন। কমানো হয়েছে অনুষ্ঠান ও অতিথির সংখ্যাও। তবে এ আয়োজনের মাধ্যমে পুলিশের মৌলিক কিছু দাবি প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরবেন সদস্যরা।
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী এবং পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির পৃথক বাণী দিয়েছেন।
এবারের বার্ষিক পুলিশ প্যারেডে নেতৃত্ব দিচ্ছেন ঢাকা মহানগর পুলিশ-এর উপ-পুলিশ কমিশনার হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার। তার নেতৃত্বে বিভিন্ন কনটিনজেন্টের সদস্যরা প্যারেডে অংশ নেবেন।
পুলিশ সপ্তাহের উল্লেখযোগ্য কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে— প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশ পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতি (পুনাক) স্টল পরিদর্শন, কল্যাণ প্যারেড, ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ, আইজিপি ব্যাজ ও শিল্ড প্যারেড, অস্ত্র ও মাদক উদ্ধারে পুরস্কার বিতরণ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীদের সঙ্গে সম্মেলন।
পুলিশ সপ্তাহের বিভিন্ন কর্ম-অধিবেশনে বিগত বছরের কার্যক্রম পর্যালোচনা করে আগামী বছরের কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ করা হবে। আগামী ১৩ মে এ আয়োজন শেষ হবে।