পঞ্চগড়ে আহছানিয়া মিশনের প্রতিষ্ঠান ডাম ফাউন্ডেশন ফর ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট (ডিএফইডি)-এর ঋণ কার্যক্রমে জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। এতে জেলা সদরের হাফিজাবাদ ইউনিয়নের বেশ কিছু গ্রাহক জালিয়াতির শিকার হয়েছেন। ঋণ দেওয়ার নামে মাঠ পর্যায়ের কর্মচারীরা ছবি এবং জাতীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহ করে গ্রাহকদের নামে ঋণ তুলে আত্মসাৎ করেছেন।
এই ঘটনায় পঞ্চগড় সদর থানায় পঞ্চগড় এরিয়া কার্যালয়ের তিন কর্মচারীর নামে ডিএফইডি-র জোনাল ম্যানেজার দুলাল চন্দ্র লিখিত অভিযোগ করেছেন। বর্তমানে পঞ্চগড় সদর থানা পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে।
ভুক্তভোগী গ্রাহকরা জানান, তাঁরা হাফিজাবাদ ইউনিয়নের খালপাড়া এলাকার বাসিন্দা। গত তিন-চার মাস আগে ডাম ফাউন্ডেশনের মাঠ কর্মচারী মামুনুর রশিদ সহ কয়েকজন খালপাড়া এলাকার নারীদের সাথে বৈঠক করে ঋণ দেওয়ার কথা বলে ছবি ও জাতীয় পরিচয়পত্র তাঁদের কাছ থেকে সংগ্রহ করেন। সেই সাথে ঋণের বিপরীতে প্রতিজনের কাছ থেকে আট হাজার টাকা সঞ্চয় গ্রহণ করেন ডিএফইডি-র কর্মচারী। এক সপ্তাহের মধ্যে ৫০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা ঋণ দেওয়ার কথা বলেন। কিন্তু দুই মাস পার হলেও তাঁরা ঋণ পাননি। তবে এরই মাঝে ডাম ফাউন্ডেশনের ম্যানেজার কামরুজ্জামান ও হিসাব রক্ষক মৌসুমী এসে তাঁদের কাছে কিস্তি দাবি করেন। কিস্তি পরিশোধ না করলে মামলার হুমকিও দেন কর্মকর্তারা। এতে কিস্তি আতঙ্কে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা নিয়ে দিন পার করছেন ভুক্তভোগী নারী-পুরুষেরা।
হাফিজাবাদ ইউনিয়নের খালপাড়া গ্রামের ভুক্তভোগী রাসেল ইসলাম জানান, তাঁর কাছ থেকে ঋণ দেওয়ার কথা বলে আট হাজার টাকা সঞ্চয় গ্রহণ করা হয়েছে, কিন্তু কর্তৃপক্ষ ঋণ দেননি। পরে তাঁর কাছে কিস্তি দাবি করেন পঞ্চগড় শাখার ম্যানেজার কামরুজ্জামান। তিনি বলেন, “এখন আমি অসহায়, আমি ডাম ফাউন্ডেশনের কর্মচারীদের বিচার চাই।”
জাকির হোসেন নামে জালিয়াতির শিকার আরেক ভুক্তভোগী জানান, মাঠ কর্মকর্তা মামুনুর রশিদ এবং আমকাঠাল এলাকার মাসুম নামে দুজন তাঁকে ঋণ দেওয়ার কথা বলে ছবি ও পরিচয়পত্রের ফটোকপি নেন, কিন্তু ঋণ দেননি। পরবর্তীতে ম্যানেজার কামরুজ্জামান তার কাছে কিস্তি দাবি করেন এবং কিস্তি পরিশোধ না করলে মামলার হুমকি দেন। তিনি বলেন, “আমি ঋণ গ্রহণ না করেও ঋণী হয়ে গেছি। আমি মাঠ কর্মকর্তা মামুনুর রশিদ এবং ম্যানেজার কামরুজ্জামানের বিচার চাই।” একই কথা জানান ভুক্তভোগী দুলাল ও খাদেমুল ইসলাম।
সরেজমিনে পঞ্চগড়ের মিঠাপুকুর এলাকায় পঞ্চগড় সদর শাখা এরিয়া ও জোনাল অফিসে যোগাযোগ করা হলে ডাম ফাউন্ডেশনের এরিয়া ম্যানেজার আমিরুল ইসলাম এবং জোনাল ম্যানেজার দুলাল চন্দ্র জানান, পঞ্চগড় শাখার ম্যানেজার কামরুজ্জামান, হিসাব রক্ষক মৌসুমী, মাঠ কর্মকর্তা মামুনুর রশিদের বিরুদ্ধে প্রান্তিক এরিয়া থেকে তাঁদের কাছে ঋণ নিয়ে গ্রাহকদের অভিযোগ আসার পর। তাদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করা হয়েছে। হিসাব রক্ষক মৌসুমী এবং মাঠ কর্মী মামুনুর রশিদ গত কয়েকদিন থেকে অফিস থেকে পলাতক।
এছাড়াও হেড অফিস থেকে একদল অডিটর মাঠ পর্যায়ে অডিট করছেন। ম্যানেজারের কামরুজ্জামানের অধীনে সকল ঋণ গ্রাহকের খোঁজ খবর নেওয়া হচ্ছে। অডিট রিপোর্ট দেওয়ার পর জানা যাবে আসলে কত টাকার ঋণ জালিয়াতি হয়েছে।
পঞ্চগড় সদর থানার ওসি আশরাফুল ইসলাম জানান, আহছানিয়া মিশনের ডাম ফাউন্ডেশন ফর ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট (ডিএফইডি)-এর পঞ্চগড়ের তিন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। বিষয়টি তদন্তের পর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।