নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) কৃতী শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘মিট আপ উইথ দ্যা ভাইস চ্যান্সেলর-২০২৬’। শিক্ষার্থীদের একাডেমিক সাফল্য উদযাপন, গবেষণায় উৎসাহ প্রদান এবং ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব বিকাশের লক্ষ্য নিয়ে আয়োজিত এ অনুষ্ঠান স্বপ্ন, অর্জন ও অনুপ্রেরণার মিলনমেলায় পরিণত হয়।
বুধবার (১৩ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ের বীরশ্রেষ্ঠ শহিদ মোহাম্মদ রুহুল আমিন অডিটোরিয়ামে নোবিপ্রবি রিসার্চ সেলের উদ্যোগে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠ করা হয়। এ সময় যুক্তরাষ্ট্রে পিএইচডি অধ্যয়নরত অবস্থায় নিহত শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। পরে আমন্ত্রিত অতিথিদের শুভেচ্ছা উপহার তুলে দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইসমাইল। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রেজওয়ানুল হক ও কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হানিফ মুরাদ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রিসার্চ সেলের পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আব্দুস সালাম।
এছাড়াও বক্তব্য দেন নোয়াখালী জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. হারুনুর রশিদ আজাদ, প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আসাদুন নবী, কলা ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. রোকনুজ্জামান সিদ্দিকী, বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মহিনুজ্জামান, নোয়াখালী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. মনিরুল ইসলাম, রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ তামজিদ হোছাইন চৌধুরী এবং ভুলুয়া ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ আবু জাফর মোহাম্মদ হারুন। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন রিসার্চ সেলের সহকারী পরিচালক অধ্যাপক ড. নাজিয়া মাজেদী ও কৃতী শিক্ষার্থীরা।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইসমাইল তাঁর বক্তব্যে বলেন, “আজকের অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ কৃতী শিক্ষার্থীরা। তাদের এ সাফল্যের পেছনে রয়েছে অনেক ত্যাগ, পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের গল্প। এই আয়োজন শুধু ভালো ফলাফল উদযাপন নয়, বরং সেই সফলতার স্বীকৃতি।”
তিনি আরও বলেন, “তোমাদের মেধা শুধু নিজেদের জন্য নয়, সমাজ ও রাষ্ট্রের অগ্রগতির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। নিজেকে এমনভাবে গড়ে তোলো, যেন তোমাদের অর্জনে পরিবার, বিশ্ববিদ্যালয় ও দেশ গর্ববোধ করে।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরে উপাচার্য বলেন, গবেষণা, প্রকাশনা, আন্তর্জাতিক র্যাঙ্কিং ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে নোবিপ্রবি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। তিনি জানান, চলতি বছর ইতোমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের ২০০টির বেশি গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়া টাইমস হায়ার এডুকেশন (টিএইচই) প্রকাশিত এশিয়া বিশ্ববিদ্যালয় র্যাঙ্কিং ২০২৬-এ নোবিপ্রবি ৬০১-৮০০ ব্যান্ডে স্থান পেয়েছে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অর্জন।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে উপাচার্য আরও বলেন, “শিক্ষা শুধু সনদ অর্জনের নাম নয়, মানবিকতা ও দায়িত্ববোধের আলোয় নিজেকে আলোকিত করার নাম। তোমরাই আগামী দিনের পরিবর্তনের অগ্রদূত।” উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রেজওয়ানুল হক বলেন, “যেখানেই থাকো, নিজের প্রতিষ্ঠানকে ভুলে যেও না। দেশের জন্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য কাজ করবে।”
কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হানিফ মুরাদ বলেন, “শিক্ষার্থীদের মানসম্পন্ন শিক্ষায় শিক্ষিত করে তোলা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ভৌত অবকাঠামো উন্নয়নে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।” অনুষ্ঠানে নোবিপ্রবির ২৭টি বিভাগ ও ২টি ইনস্টিটিউটের স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের চূড়ান্ত ফলাফলের ভিত্তিতে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জনকারী ২৩৭ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। এ সময় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নেন উপাচার্য এবং শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
এছাড়াও সংস্কারের পর নতুন সাজে সজ্জিত বীরশ্রেষ্ঠ শহিদ মোহাম্মদ রুহুল আমিন অডিটোরিয়ামের আধুনিকীকরণ উদ্বোধন করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইসমাইল।
অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা, কর্মচারী, আমন্ত্রিত অতিথি ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। ব্যতিক্রমধর্মী এ আয়োজন শিক্ষক-শিক্ষার্থী মহলে প্রশংসিত হয়েছে।