
ভারতের প্রধানমন্ত্রী জানালেন আমিরাতে পাশে ইন্ডিয়া কাঁদে কাঁধ মিলিয়ে আছে, থাকবে
সংযুক্ত আরব আমিরাতে পৌঁছালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান দেশটির রাষ্ট্রপতি শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান। মোদির বিমান আমিরাতের আকাশসীমায় প্রবেশ করার পর সামরিক যুদ্ধবিমানের বহর সেটিকে এসকর্ট করে আবুধাবি বিমানবন্দর পর্যন্ত নিয়ে যায়। পরে গার্ড অব অনার ও দুই দেশের জাতীয় সঙ্গীতের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হয় আনুষ্ঠানিক স্বাগত অনুষ্ঠান।
বিমান থেকে নামার পর দুই নেতা একে অপরকে আলিঙ্গন করেন। এমন সম্মানজনক অভ্যর্থনার জন্য শেখ মোহাম্মদ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন নরেন্দ্র মোদি।
বৈঠকে আঞ্চলিক পরিস্থিতি, নিরাপত্তা ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করেন দুই নেতা। মোদি বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক প্রেক্ষাপটে ভারত-আমিরাত সম্পর্কের গুরুত্ব আরও বেড়েছে। তিনি এই ‘ব্যাপক কৌশলগত অংশীদারিত্ব’কে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার জন্য শেখ মোহাম্মদকে ধন্যবাদ জানান।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন, যেকোনো পরিস্থিতিতে ভারত সংযুক্ত আরব আমিরাতের পাশে থাকবে। একই সঙ্গে তিনি মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, সমস্যা সমাধানে সংলাপ ও কূটনীতিই সবচেয়ে কার্যকর পথ। হরমুজ প্রণালীকে নিরাপদ, মুক্ত ও উন্মুক্ত রাখার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
ভারতের সরকারি সংবাদ সংস্থা এএনআই জানিয়েছে, সফরকালে দুই দেশের মধ্যে কৌশলগত প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ এবং তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) সরবরাহসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি হয়েছে।
এছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাতে বসবাসরত ভারতীয় প্রবাসীদের প্রতি যত্ন ও সহযোগিতার জন্য আমিরাত সরকার এবং রাজপরিবারকে ধন্যবাদ জানান মোদি। তিনি বলেন, আমিরাতকে তিনি নিজের ‘দ্বিতীয় বাড়ি’ মনে করেন।
সম্প্রতি সংযুক্ত আরব আমিরাতের ওপর হওয়া হামলার নিন্দা জানিয়ে মোদি বলেন, এ ধরনের ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি জাতীয় নিরাপত্তা, ঐক্য ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় আমিরাতের নেওয়া পদক্ষেপের প্রশংসা করেন এবং বলেন, কঠিন সময়ে দেশটি যে সংযম, সাহস ও প্রজ্ঞার পরিচয় দিয়েছে, তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়।