গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের এমপি বলেন- সরকার নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ফ্যামিলি কার্ড প্রদান কার্যক্রম শুরু করেছে। এ বছরের মধ্যে সারা দেশে ৫০ লক্ষ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড প্রদান করবে। দলমত নির্বিশেষে দেশের প্রতি আস্থা বিশ্বাস ও ভালোবাসা বাড়াতে হবে এবং ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাতকে কাজে লাগিয়ে ঐক্যবদ্ধ ভাবে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে। এটি সামাজিক ভাবে দেশের সকল নাগরিকের দায়িত্ব।
রোববার (১৭ মে) কুমিল্লার বরুড়া উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের আওতায় মাদক, গুজব, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ এবং ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও কৃষি ঋণ মওকুফ, বৃক্ষরোপন, নারীর জন্য গাড়ি, খাল খননসহ ইশতেহারে বর্ণিত বিষয়সমূহে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কুমিল্লা জেলা তথ্য অফিস কুমিল্লার আয়োজনে নারী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলে।
নারী সমাবেশে প্রধান অতিথি জাকারিয়া তাহের বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২০২৬ সালের ১০ মার্চ চালু হওয়া প্রকল্পের আওতায় প্রাথমিকভাবে দেশের ৩৭ হাজার ৫৬৭টি নারী প্রধান পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড প্রদানের মাধ্যমে শুভ উদ্বোধন করেন। এই ধারাবাহিকতায় ১৬ মে ২০২৬ তারিখে চাঁদপুরে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ২০টি জেলায় আরো ১৫ হাজার ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচি উদ্বোধন করেন। এই কার্ডের মাধ্যমে পরিবারগুলো আর্থিক সহায়তা পাবে। পরবর্তীতে আগামী ৫ বছরের মধ্যে পর্যায়ক্রম ৪ কোটি পরিবারকে এই সুবিধার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে বর্তমান সরকারের। বর্তমান সরকার নির্বাচিত হওয়ার ১০ দিনের মধ্যে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করেছে, যা প্রায় ১৩ লাখ ১৭ হাজার ৪৯৮ জন ক্ষুদ্র কৃষককে সহায়তা করবে। এই প্রকল্পের আওতায় ১ হাজার ৫৬৮ কোটি টাকার ঋণ মওকুফ করা হয়েছে।
ধর্মীয় উপাসনালয়ে দায়িত্বপ্রাপ্তদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম, পুরোহিত, অধ্যক্ষ, পালক/যাজকসহ ধর্মীয় নেতাদের মাসিক সম্মানী প্রদান করেছে বর্তমান সরকার। বাংলাদেশে নারীদের নিরাপদ ও আরামদায়ক যাতায়াত নিশ্চিত করতে বিশেষ বাস সার্ভিস চালু করবে সরকার, যেখানে চালক থেকে শুরু করে হেল্পার পর্যন্ত সবাই নারী। নারীদের আর্থ-সামাজিক ক্ষমতায়নে সমর্থন দেওয়া, প্রশিক্ষণ ও ক্ষুদ্রঋণ প্রসার, স্বাস্থ্যসেবা সুলভ করা এবং সামাজিক সহাবস্থান নিশ্চিত করার মতো বিষয়গুলোতে স্থানীয় প্রতিনিধিদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার আহব্বান জানান।
বিভিন্ন সরকারি ও স্থানীয় উদ্যোগের সঙ্গে এনজিও ও কমিউনিটি লেভেলের সহযোগিতা থাকলে নারীদের স্বনির্ভরতা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের অংশগ্রহণ দ্রুত বাড়বে। নারীর অংশগ্রহণ ও ক্ষমতায়ন ছাড়া টেকসই সামাজিক উন্নয়ন সম্পূর্ণভাবে অর্জন সম্ভব নয়। সকল ক্ষেত্রে নারী অধিকার প্রতিষ্ঠা ও চাকুরীতে নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত জরুরী। নারী সমাবেশের শুরুতে চলচ্চিত্র প্রদর্শন অনুষ্ঠিত হয়। বরুড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার আসাদুজ্জামান রনি’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত নারী সমাবেশে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সিনিয়র তথ্য অফিসার মোহাম্মদ নূরুল হক।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বরুড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ভারপ্রাপ্ত) নাজমুল হাসান, সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান শাহীনা মমতাজ ও শিক্ষক কহিনুর কবিতা। বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী নারীর ক্ষমতায়ন, আত্মনির্ভরতা ও সামাজিক উন্নয়নে সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এই নারী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এ সমাবেশে স্থানীয় নারী সমাজ, শিক্ষক, সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি ও বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ অংশ নেন।