যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান সমঝোতা আলোচনার অংশ হিসেবে নিজেদের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুত রাশিয়ার কাছে হস্তান্তর করতে প্রস্তুত ইরান। সৌদি আরবভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল হাদাথ এক ফাঁস হওয়া নথির বরাতে এ দাবি করেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পাঠানো সর্বশেষ শান্তি প্রস্তাবে তেহরান এ পরিকল্পনা তুলে ধরেছে। তবে ইরান স্পষ্ট করেছে, তারা সম্পূর্ণভাবে পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করবে না।
গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার পর এক মাসব্যাপী সংঘাত শুরু হয়। পরে এপ্রিলের শুরুতে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় পরোক্ষ আলোচনা শুরু হয়। যদিও উভয় পক্ষ একে অপরের দাবি প্রত্যাখ্যান করায় আলোচনা স্থবির হয়ে পড়ে।
আল হাদাথের তথ্যমতে, ইরান দীর্ঘ সময়ের জন্য পারমাণবিক কর্মসূচি স্থগিত রাখতে রাজি আছে, তবে শর্ত হচ্ছে তাদের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নয়, রাশিয়ার কাছে হস্তান্তর করতে হবে।
আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (IAEA) হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে ইরানের কাছে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ প্রায় ৪০০ কেজির বেশি ইউরেনিয়াম রয়েছে। অস্ত্র তৈরির জন্য সাধারণত ৯০ শতাংশ বা তার বেশি মাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম প্রয়োজন হয়।
এদিকে রাশিয়া আগেও ইরানের ইউরেনিয়াম মজুত সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সম্প্রতি সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা শুধু প্রস্তাবই দেইনি, ২০১৫ সালেও এটি বাস্তবায়ন করেছিলাম। ইরান আমাদের ওপর পূর্ণ আস্থা রাখে এবং তার যথেষ্ট কারণ রয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, মস্কো কখনও কোনো চুক্তি লঙ্ঘন করেনি এবং ইরানের শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক জ্বালানি কর্মসূচিতে সহযোগিতা অব্যাহত রেখেছে।
অন্যদিকে, মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, ওয়াশিংটন ইতোমধ্যে ইরানের সর্বশেষ প্রস্তাবকে “অপর্যাপ্ত” বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা বলেন, আগের প্রস্তাবের তুলনায় এতে শুধু “সামান্য পরিবর্তন” আনা হয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বরাবরই দাবি করে আসছেন, ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম যুক্তরাষ্ট্রের কাছেই হস্তান্তর করতে হবে। তবে সম্প্রতি ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, এই ইস্যুটি “মূলত জনসংযোগের বিষয়” এবং ইরানের ইউরেনিয়াম মজুত যুক্তরাষ্ট্রের হাতে এলে তিনি “আরও স্বস্তি অনুভব করবেন।”
সূত্র: আরটি।