উলিপুরে ধরলা-ব্রহ্মপুত্রের ভয়াল ভাঙন রোধে মানববন্ধন, অনিয়মের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করছে এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত জনগন। প্রতিদিন একটু একটু করে নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে বসতভিটা, ফসলি জমি, স্কুল-কলেজ, বাজার ও সরকারি স্থাপনা। ঘুম ভাঙলেই নতুন করে ভাঙনের খবর—এমন আতঙ্ক নিয়েই দিন কাটছে কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার নদীতীরবর্তী মানুষের। ধরলা নদী ও ব্রহ্মপুত্র নদের ভয়াবহ ভাঙন থেকে রক্ষা পেতে অবশেষে রাস্তায় নেমেছেন এলাকাবাসী।
মঙ্গলবার (১৯ মে) দুপুরে উপজেলার বেগমগঞ্জ ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামে ভাঙন রোধে জরুরি পদক্ষেপ এবং নদীতীর সংরক্ষণ কাজে অনিয়মের প্রতিবাদে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের ব্যানারে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার শত শত মানুষ অংশ নেন।
মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন বেগমগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বাবলু মিয়া, সাবেক চেয়ারম্যান বেলাল হোসেন, ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন, শিক্ষক নুর-ই-এলাহি, ইউপি সদস্য শহিদুল ইসলামসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
বক্তারা জানান, ইসলামপুর গ্রামের রসুলপুর পাড়া, হিন্দুপাড়া, মাঝিপাড়া ও কানাপাড়া এলাকায় গত এক বছরে ভয়াবহ ভাঙনে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার এলাকা নদীগর্ভে চলে গেছে। এতে দুই শতাধিক ঘরবাড়ি, প্রায় ৫০০ একর কৃষিজমি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বাজার, কমিউনিটি ক্লিনিক, ভূমি অফিস ও ধর্মীয় উপাসনালয় বিলীন হয়েছে।
তাদের অভিযোগ, ভাঙন রোধে কার্যকর উদ্যোগ না থাকায় দিন দিন পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠছে। একই সঙ্গে নদীতীর সংরক্ষণ কাজে অনিয়মের অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা।
বক্তারা আরও বলেন, দ্রুত টেকসই বাঁধ নির্মাণ না করা হলে সহস্রাধিক ঘরবাড়ি, বেগমগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদ, একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং হাজার হাজার একর কৃষিজমি নদীগর্ভে হারিয়ে যেতে পারে।
মানববন্ধন থেকে অবিলম্বে ভাঙন রোধে স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ, নদীতীর সংরক্ষণ কাজে স্বচ্ছতা নিশ্চিত এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের দাবি জানানো হয়।
আমার বাঙলা/আরএ