যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর ঘোষণার কয়েক দিনের মধ্যেই আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে লেবানন–ইসরায়েল সীমান্ত। দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত ১৯ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে।
সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, নিহতদের মধ্যে ১০ জন দক্ষিণ লেবাননের দেইর কানুন শহরের একটি বাড়িতে চালানো বিমান হামলায় প্রাণ হারান। নিহতদের মধ্যে তিন শিশু ও তিন নারী রয়েছেন। এ হামলায় আরও তিনজন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে এক কিশোরীও রয়েছে।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেইর কানুন ছাড়াও নাবাতিয়েহ ও টাইর জেলাতেও ইসরায়েলি হামলায় আরও ৯ জন নিহত এবং ২৯ জন আহত হয়েছেন।
গত ২ মার্চ ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের দিকে রকেট হামলা চালায়। গোষ্ঠীটি জানায়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নিহত হওয়ার প্রতিশোধ হিসেবে এই হামলা চালানো হয়েছিল। এরপর থেকেই লেবানন সরাসরি সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে।
সর্বশেষ প্রাণহানির ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটল, যখন কয়েক দিন আগেই যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছিল যে লেবানন ও ইসরায়েল ৪৫ দিনের জন্য যুদ্ধবিরতি বাড়াতে সম্মত হয়েছে। জুনের শুরুতে দুই পক্ষের মধ্যে নতুন করে আলোচনা শুরু হওয়ার কথাও রয়েছে।
তবে যুদ্ধবিরতির পরও দক্ষিণ লেবাননে হামলা-পাল্টা হামলা অব্যাহত রয়েছে। ইসরায়েলের দাবি, তারা হিজবুল্লাহর অবস্থান লক্ষ্য করেই হামলা চালাচ্ছে। তবে এসব হামলায় প্রায়ই বেসামরিক নাগরিক হতাহত হচ্ছেন।
অন্যদিকে হিজবুল্লাহ জানিয়েছে, তারা দক্ষিণ লেবাননের হাদ্দাথা শহরের কাছে অগ্রসর হওয়া ইসরায়েলি বাহিনীর ওপর হামলা চালিয়েছে। গোষ্ঠীটি দাবি করেছে, তারা একটি ইসরায়েলি ট্যাংক ধ্বংস করেছে এবং উত্তর ইসরায়েলের সীমান্ত এলাকায় আয়রন ডোম প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকেও লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।
এদিকে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর হামলায় তাদের আরও এক সেনা নিহত হয়েছে।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মার্চ থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি হামলায় দেশটিতে নিহতের সংখ্যা ৩ হাজার ছাড়িয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তি অনুযায়ী, হিজবুল্লাহর সামরিক তৎপরতা ঠেকানোর দাবি তুলে ইসরায়েল লেবাননে হামলা চালাতে পারবে। বর্তমানে ইসরায়েলি স্থলবাহিনী লেবানন সীমান্তসংলগ্ন প্রায় ১০ কিলোমিটার এলাকা দখলে রেখেছে।