জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে প্রবাসীর স্ত্রীর সাথে পরকীয়া করতে এসে জনতার হাতে ধরা খেল দুই প্রেমিক। গত বৃহস্পতিবার (২১ মে) উপজেলার ডোয়াইল ইউনিয়ন ও পৌর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, সরিষাবাড়ী উপজেলার ডোয়াইল ইউনিয়নের গারোডোবা এলাকার দুবাই প্রবাসী রিফাতের স্ত্রী লাবনীর সঙ্গে ফেসবুকে পরিচয়ের পর খালাতো ভাই পরিচয়ে ওই বাড়িতে যান নীরব হোসেন (২০)। গভীর রাতে প্রবাসীর স্ত্রীর কক্ষে তাকে দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা বাড়িটি ঘেরাও করে দুজনকে আটক করে।
এ সময় তারা মারধরের শিকার হয়েছেন বলেও জানা গেছে। নীরব হোসেন ধনবাড়ী উপজেলার বলিবদ্র ইউনিয়নের মুসুদ্দি উত্তরপাড়া গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের পুত্র। সে মিরপুর এম ও এস (ভিটিসিতে) দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র বলে জানা গেছে। পরে স্থানীয়ভাবে সমঝোতার অংশ হিসেবে নীরব বিয়েতে রাজি থাকলেও প্রবাসীর স্ত্রী লাবনী সংসার ভেঙে প্রেমিককে বিয়ে করতে নারাজ বলে জানা গেছে।
অপরদিকে, পরকীয়ার সন্দেহে ফারুক হোসেন (৪২) নামে চার সন্তানের এক জনককে গাছ ও বাড়ির বারান্দার গ্রিলের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। সংবাদ পেয়ে প্রায় ১৬ ঘণ্টা পর পুলিশ তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাউসী মধ্যপাড়া এলাকায় বেলাল হোসেনের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ ও ভুক্তভোগী পরিবারের সূত্রে জানা যায়, ফারুক হোসেন ও বেলাল হোসেন একই গ্রামের প্রতিবেশী। বুধবার গভীর রাতে রেশমী নামে এক নারী মোবাইল ফোনে বেলাল হোসেনকে আচার ও বিস্কুট নিয়ে দেখা করতে বলে। ফারুক হোসেন তার ঘরে গেলে স্থানীয় লোকজন বিষয়টি টের পেয়ে তাকে আটক করে। স্থানীয় আনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে রনি, আল-আমিন, আকাশ, রাকিবসহ কয়েকজন এবং রেশমীর পরিবারের সদস্যরা ফারুক হোসেনকে প্রথমে একটি গাছের সঙ্গে এবং পরে বাড়ির বারান্দার গ্রিলের সঙ্গে হাত পিঠমোড়া করে বেঁধে মারধর করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টার দিকে সরিষাবাড়ী থানার এসআই সুব্রত সরকারের নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ফারুক হোসেনকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। পরে চিকিৎসার জন্য তাকে পরিবারের সদস্য আফাজ উদ্দিনের জিম্মায় দেওয়া হয়। উভয় ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
এ ঘটনায় স্থানীয় আব্দুল বারীক মেলেটারী ও হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, কোনো অভিযোগ থাকলে আইনগত পথ রয়েছে। কাউকে এভাবে বেঁধে নির্যাতন করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
এ বিষয়ে সরিষাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন বলেন, ঘটনার বিষয়ে আমরা অবগত হয়েছি। তবে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সালাউদ্দিন/সাএ