চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার পাইন্দং ইউনিয়নের আমতলী এলাকায় বাসের চাপায় মোটরসাইকেল আরোহী বাবা ও ছেলে নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ জনতা সড়ক অবরোধ করে দুর্ঘটনায় জড়িত বাসে আগুন ধরিয়ে দেয়।
সোমবার (১ জুন) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি আঞ্চলিক মহাসড়কের আমতলী এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন উপজেলার উত্তর পাইন্দং এলাকার বাসিন্দা মুহাম্মদ শাহজাহান (৪৮) ও তার ছেলে মুহাম্মদ আরিফ (১৮)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শাহজাহান ও তার ছেলে মোটরসাইকেলযোগে চট্টগ্রাম শহরের দিকে যাচ্ছিলেন। পথে আমতলী এলাকায় পৌঁছালে একটি দ্রুতগতির বিআরটিসি বাস মোটরসাইকেলটিকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই বাবা-ছেলের মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার তীব্রতায় মোটরসাইকেলটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়।
মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় লোকজন ও স্বজনরা মহাসড়কে বিক্ষোভ শুরু করেন। একপর্যায়ে তারা সড়ক অবরোধ করে দুর্ঘটনায় জড়িত বাসটিতে আগুন ধরিয়ে দেন। এতে বাসটির বড় একটি অংশ পুড়ে যায়। বিক্ষোভের কারণে মহাসড়কে কিছু সময় যান চলাচল বন্ধ হয়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে কাজ করেন। পরে যান চলাচল ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়।
নাজিরহাট হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোবারক বলেন, মোটরসাইকেলকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই বাবা-ছেলের মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার পর উত্তেজিত জনতা বাসে আগুন দেয়। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং পুলিশ ঘটনাস্থলে অবস্থান করছে।
ফটিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল আলম খান বলেন, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। স্থানীয়দের সহযোগিতায় মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়েছে। নিহতদের মরদেহ উদ্ধারের পাশাপাশি আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত করা হবে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।