ইসরায়েল ও লেবানন তাদের ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি কার্যকর করতে এবং লেবাননের অভ্যন্তরে বেশ কয়েকটি পরীক্ষামূলক নিরাপত্তা অঞ্চল তৈরি করতে সম্মত হয়েছে বলে ঘোষণা দিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। তবে একটি যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, অন্যান্য শর্তের পাশাপাশি এই চুক্তিটি ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর হামলা সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করার ওপর নির্ভরশীল।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বিবিসির খবরে বলা হয়, এই তিনটি দেশ যেকোনো রাষ্ট্র বা অরাষ্ট্রীয় পক্ষের দ্বারা লেবাননের ভবিষ্যৎকে জিম্মি করার যেকোনো প্রচেষ্টাকে প্রত্যাখ্যান করেছে। দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত নয়জন নিহত এবং উত্তর ইসরায়েলে হিজবুল্লাহর রকেট হামলার পর বুধবার ওয়াশিংটনে এই চুক্তিটি ঘোষণা করা হয়। লেবাননের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, বৃহস্পতিবারও দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত ছিল এবং একটি হামলায় হতাহতের ঘটনাও ঘটেছে।
শিয়া মুসলিম মিলিশিয়া, রাজনৈতিক দল এবং সামাজিক আন্দোলন হিজবুল্লাহ লেবাননের সবচেয়ে শক্তিশালী গোষ্ঠী। ইরানের সমর্থনে এটি লেবাননের সেনাবাহিনীর চেয়েও শক্তিশালী একটি সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তুলেছে এবং ইসরায়েলের সাথে জড়িয়েছে একাধিক সংঘাতে। যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রসহ ইসরায়েল এবং আরও অনেক দেশ গোষ্ঠীটকে একটি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবেও চিহ্নিত করেছে।
মার্কিন মধ্যস্থতায় চতুর্থ দফা আলোচনার পর ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে যে চুক্তিটি হয়েছে, তা ইসরায়েলি সীমান্ত এবং প্রায় ৩০ কিলোমিটার (১৯ মাইল) উত্তরে লিতানি নদীর মধ্যবর্তী একটি এলাকা থেকে হিজবুল্লাহর সকল সদস্যকে সরিয়ে নেয়ার শর্তের ওপর নির্ভরশীল। এই এলাকাটি বর্তমানে ইসরায়েলি স্থলবাহিনীর দখলে রয়েছে।
চুক্তিতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ‘পাইলট জোন’ তৈরিতে নির্দেশনা দিতে সাহায্য করবে, যেখানে লেবাননের সশস্ত্র বাহিনী সকল অরাষ্ট্রীয় পক্ষকে বাদ দিয়ে ভূখণ্ডটির একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ নেবে। এই পাইলট জোনগুলো কোথায় অবস্থিত হবে তা নির্দিষ্ট করে চুক্তিতে কোনো মানচিত্র অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি বা বাস্তবে এগুলো কীভাবে কাজ করবে তার কোনো ব্যাখ্যাও দেয়া হয়নি।
সোমবার ঘোষিত একটি আংশিক যুদ্ধবিরতির পর এই চুক্তিটি হয়। লেবানন জানায়, এই যুদ্ধবিরতির ফলে হিজবুল্লাহ ইসরায়েলে হামলা না করার বিনিময়ে ইসরায়েল লেবাননের রাজধানী বৈরুতে বোমা হামলা থেকে বিরত থাকবে। একটি পূর্ণাঙ্গ চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্যে আরও আলোচনার জন্য ২২ জুন পুনরায় বৈঠকে বসবেন দুই দেশের প্রতিনিধিরা।
তবে এ বিষয়ে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি হিজবুল্লাহ। গোষ্ঠীটি বিবিসিকে জানিয়েছে যে, তারা যথাসময়ে আনুষ্ঠানিকভাবে মন্তব্য করবে।
সালাউদ্দিন/সাএ