ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার সোহাগী ইউনিয়নের ভালুকবেড় (আগপাড়া) গ্রামে মাদকসেবী জামাইয়ের হামলা ও ধারাবাহিক হুমকিতে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন শ্বশুরবাড়ির সদস্যরা। পারিবারিক কলহের জেরে শাশুড়িকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগে জামাইসহ চারজনের বিরুদ্ধে ঈশ্বরগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালের নভেম্বর মাসে একই গ্রামের হাছেন আলীর ছেলে আনারুলের সঙ্গে সোমার বিয়ে হয়। তাদের সংসারে একটি পুত্র সন্তান রয়েছে। পরিবারের দাবি, স্ত্রীর চাকরির জমানো অর্থ ও ঋণের টাকা দিয়ে একটি বসতঘর নির্মাণ করা হলেও বিয়ের পর থেকেই আনারুলের মাদকাসক্তির বিষয়টি সামনে আসে। নেশাগ্রস্ত অবস্থায় তিনি প্রায়ই স্ত্রীকে শারীরিক নির্যাতন করতেন।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ১৩ এপ্রিল ২০২৬ বিকেলে আনারুল তার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দেয়। এ সময় শাশুড়ি রুজিনা বেগম প্রতিবাদ করলে আনারুল লাঠি দিয়ে তার মাথায় আঘাত করে। এতে তার মাথা ফেটে রক্তাক্ত জখম হয়। তার চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন ছুটে এলে অভিযুক্তরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে পালিয়ে যায়। পরে আহত অবস্থায় রুজিনাকে উদ্ধার করে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
ভুক্তভোগী রুজিনা বেগম জানান, ঘটনার পর স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে একাধিকবার সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও অভিযুক্তরা কোনো সিদ্ধান্ত মানেনি। বরং উল্টো বিভিন্ন সময়ে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, গত ৬ জুন দুপুরে তার দেবর শফিক মিয়া ও চাচাতো দেবর লোকমান মিয়াকে রাস্তায় একা পেয়ে মারধরের চেষ্টা করা হয়। এ কারণে পুরো পরিবার বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে আনারুলের বাড়িতে গেলে তাকে পাওয়া যায়নি। তবে তার বোন ফরিদা ও বড় ভাই আমিরুলের স্ত্রী সাজিয়া বেগম বলেন, স্বামী-স্ত্রীর বিষয় নিয়ে আমাদের কিছু বলার নেই। তাদের নিজেদের বিষয় তারা বুঝবে।
এ বিষয়ে রবিউল আজম বলেন, লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
কুশল/সাএ