তাসকিন আহমেদের এক দুর্দান্ত বল সিমে পড়ে ভেতরের দিকে সুইং করলো। কিছু বুঝে ওঠার আগেই অস্ট্রেলিয়ান ওপেনার ম্যাথু শর্টকে সে স্টাম্পের সঙ্গে বিদায় নিতে হলো।
প্রথম বলেই উইকেট পাওয়ার পর তাসকিনের উদযাপন অনেকের মনে করিয়ে দিল আরও দুজনকে। বাংলাদেশের হয়ে ওয়ানডে ক্রিকেটে ইনিংসের প্রথম বলেই উইকেট নেওয়ার কীর্তি আগে করেছেন সাইফুল ইসলাম ও সৈয়দ রাসেল। এবার সেই তালিকায় নাম লিখলেন তাসকিন।
সাইফুল ইসলামের কীর্তি অনেকের চোখে পড়ে নাও থাকতে পারে। ১৯৯৫ সালে শারজায় পেপসি এশিয়া কাপে বাংলাদেশের অধিনায়ক আকরাম খান টসে জিতে প্রথমে বোলিং করার সিদ্ধান্ত নেন এবং বল তুলে দেন পেসার সাইফুল ইসলামের হাতে। প্রথম বলেই অশঙ্কা গুরুসিংহাকে আমিনুল ইসলামের হাতে ক্যাচ করান তিনি। বাংলাদেশের জন্য স্বপ্নের মতো শুরু। পরে সেই ম্যাচে সাইফুল আরও তিনটি উইকেট নেন এবং শেষ করেন ৩৬ রানে ৪ উইকেট নিয়ে। 당시 এটি বাংলাদেশের ওয়ানডেতে সেরা বোলিং রেকর্ড ছিল।
নয় বছর পর সেই রেকর্ড ভাঙেন খালেদ মাহমুদ সুজন। তবে সাইফুলের সেই কীর্তি সত্ত্বেও বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কার ২৩৩ রানের জবাবে ১২৬ রানে অলআউট হয়ে হারতে হয়।
২০০৬ সালে সেই কীর্তি কেনিয়ায় ফিরিয়ে আনেন সৈয়দ রাসেল। নাইরোবির জিমখানা মাঠে প্রথম বলেই কেনেডি ওটিয়েনোর প্যাডে বল লেগে উইকেট নেন। ওই ম্যাচ আরও স্মরণীয় হয়ে থাকে কারণ মাশরাফি বিন মুর্তজা ২৬ রানে ৬ উইকেট নেন, যা এখনও বাংলাদেশের ওয়ানডেতে সেরা বোলিং রেকর্ড হিসেবে আছে। বাংলাদেশ সেই ম্যাচে জিতেও, কেনিয়ার ১১৮ রানের টার্গেট চার উইকেট হারিয়ে ছাড়িয়ে যায়।
প্রশ্ন হতে পারে, টেস্ট ও টি-টোয়েন্টিতেও কি বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা এই কীর্তি করেছেন? টেস্টে মাশরাফি বিন মুর্তজার প্রথম বলেই ভারত ওপেনার ওয়াসিম জাফরকে বোল্ড করার কীর্তি উল্লেখযোগ্য। এটি আজও ক্রিকেটপ্রেমীদের মনে টিকে আছে।
টি-টোয়েন্টিতে এই কীর্তি বাংলাদেশের একাধিক খেলোয়াড় করেছেন। মাশরাফি একাই দুইবার প্রথম বলেই উইকেট নেন। এছাড়া মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন, মোসাদ্দেক হোসেন ও তানজিম হাসানও এই কীর্তি দেখিয়েছেন।
কুশল/সাএ