শুক্রবার , ১২ জুন ২০২৬
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. আন্তর্জাতিক
  4. খেলাধুলা
  5. জাতীয়
  6. তথ্য-প্রযুক্তি
  7. প্রাকৃতিক দুর্যোগ
  8. বিনোদন
  9. মতামত
  10. সর্বশেষ
  11. সারাদেশ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সিন্ডিকেটের থাবায় ভুট্টা, ন্যায্যমূল্যের দাবিতে গাইবান্ধার কৃষকদের আর্তনাদ

ঢাকা ইনফো২৪
জুন ১২, ২০২৬ ১১:০৫ অপরাহ্ণ
Link Copied!

মাঠজুড়ে সোনালি ভুট্টার সমারোহ। কয়েক মাসের ঘাম, শ্রম আর স্বপ্নের ফসল ঘরে তুলেছেন কৃষকরা। কিন্তু সেই ফসল বিক্রি করতে গিয়ে এখন হতাশা আর অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে তাদের। ভুট্টা তোলা শেষ, খালি হয়ে গেছে মাঠ। কোথাও পড়ে আছে শুকনো গাছের স্তূপ, কোথাও ফসল কাটা জমি। অথচ কৃষকের চোখে-মুখে নেই স্বস্তির ছাপ। আছে শুধু লোকসানের হিসাব আর দেনার দুশ্চিন্তা।

দেশের উত্তরাঞ্চলের কৃষিনির্ভর জেলা গাইবান্ধার চরাঞ্চলজুড়ে এবার ভুট্টার বাম্পার ফলন হয়েছে। কিন্তু মৌসুমের শেষ দিকে এসে বাজারে দাম ধসে পড়ায় মাথায় হাত পড়েছে হাজারো কৃষকের। তাদের অভিযোগ, মধ্যস্বত্বভোগী ও অসাধু সিন্ডিকেটের কারণে ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তারা।

কৃষকদের ভাষ্য, সার, বীজ, সেচ, কীটনাশক ও শ্রমিকের মজুরি—সবকিছুর দাম বেড়েছে কয়েকগুণ। উৎপাদন খরচও বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। অথচ মৌসুমের শুরুতে প্রতি মণ ভুট্টা যেখানে ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে, এখন সেই দাম নেমে এসেছে ৮৭০ থেকে ৯০০ টাকায়।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে গাইবান্ধায় ১৭ হাজার ৮২৫ হেক্টর জমিতে ভুট্টার আবাদ হয়েছে। যা গত বছরের তুলনায় ২৩৬ হেক্টর এবং নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৬৮৩ হেক্টর বেশি। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১ লাখ ৯৩ হাজার ৬৮২ মেট্রিক টন।

উপজেলাভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি ভুট্টা আবাদ হয়েছে ফুলছড়ি উপজেলায় ৫ হাজার ৯৪০ হেক্টর জমিতে। এরপর সুন্দরগঞ্জে ৪ হাজার ৪০৫ হেক্টর, সাঘাটায় ২ হাজার ৫ হেক্টর, গোবিন্দগঞ্জে ১ হাজার ৩৮৫ হেক্টর, সদরে ১ হাজার ১৯০ হেক্টর, সাদুল্লাপুরে ১ হাজার ১০০ হেক্টর এবং পলাশবাড়ীতে ১ হাজার হেক্টর জমিতে ভুট্টা চাষ হয়েছে। বিশেষ করে তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত চরাঞ্চলগুলো এখন ভুট্টা উৎপাদনের অন্যতম কেন্দ্র।

সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বেলকা ইউনিয়নের কৃষক আবুল কালাম আজাদ ক্ষোভ নিয়ে বলেন, “পনেরো দিন আগেও শুকনা ভুট্টা এক হাজার টাকা মণে বিক্রি হইছে। এখন ব্যাপারিরা ৯০০ টাকাতেও নিতে চায় না। মহাজনের টাকা শোধ করমু কীভাবে? টেকার দরকার বলেই কম দামে ভুট্টা বিক্রি করবার নাগছে।”

একই সংকটের কথা জানান সদর উপজেলার মোল্লারচর এলাকার কৃষক হাফিজুর রহমান। তিনি বলেন, “মহাজনের দেনা শোধ করার জন্য এখনই ভুট্টা বিক্রি করা ছাড়া উপায় নাই। ব্যাপারিরা যে দাম কয়, সেই দামেই বিক্রি করতে হচ্ছে। এত খরচ করে চাষ করেও লাভ হচ্ছে না।”

বেলকা গ্রামের কৃষক আয়াত আলীর অভিযোগ আরও তীব্র। তার ভাষায়, “ব্যাপারিরা সবাই একজোট হয়ে গেছে। সবাই একই দামে ভুট্টা কিনছে। তারা যখন খুশি দাম কমায়, আবার বাড়ায়। কৃষকরা কোনোভাবেই ন্যায্যমূল্য পাচ্ছে না।”

সদর উপজেলার কামারজানি হাটে ভুট্টা বিক্রি করতে আসা কৃষক আব্দুস সালাম বলেন, “আমরা যদি সরাসরি মিল বা কোম্পানির কাছে ভুট্টা বিক্রি করতে পারতাম, তাহলে ভালো দাম পেতাম। মধ্যস্বত্বভোগীদের কারণে আমাদের লাভের বড় অংশ চলে যাচ্ছে।”

স্থানীয় ব্যবসায়ীদের একটি অংশ নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, বড় মিল মালিকদের নির্ধারিত দামের ওপরই বাজার নির্ভর করে। ফলে কৃষকদের প্রত্যাশিত দাম দেওয়া সম্ভব হয় না।

কামারজানি হাটের আড়তদার লতিফ মিয়া বলেন, “মৌসুমের শুরুতে ভুট্টার মণ ছিল প্রায় ১ হাজার ৩০০ টাকা। এখন ৮৭০ থেকে ৯০০ টাকায় নেমে এসেছে। কিছু প্রভাবশালী ক্রেতা বাজার নিয়ন্ত্রণ করায় কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।”

কৃষি বিপণন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে হলে সংরক্ষণ ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং কৃষকদের সরাসরি বড় ক্রেতা ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত করা জরুরি।

গাইবান্ধা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (পিপি) মো. আল মুজাহিদ সরকার বলেন, “ভুট্টা গাইবান্ধার ব্র্যান্ডিং পণ্য। কৃষকরা যেন ন্যায্যমূল্য পান, সে বিষয়ে কৃষি বিভাগ বাজার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। সংরক্ষণ, বাজারজাতকরণ ও সরাসরি ক্রেতা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কৃষকদের সংযুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বাজারে কোনো ধরনের সিন্ডিকেট বা অবৈধ মজুতদারির অভিযোগ পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লা বলেন, “কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে। গাইবান্ধার চরাঞ্চলের কৃষকরা জেলার অর্থনীতির বড় শক্তি। ভুট্টা ও মরিচ এই জেলার ব্র্যান্ডিং পণ্য। কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো উচ্চ পর্যায়ে জানানো হবে।”

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এটুআই (a2i) কর্মসূচির উদ্যোগে গাইবান্ধার ভুট্টা, মরিচ ও রসমঞ্জুরি জেলার ব্র্যান্ডিং পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি পায়।

কিন্তু সেই ব্র্যান্ডিং পণ্যের কৃষকরাই আজ সবচেয়ে বেশি হতাশ। বাম্পার ফলনের পরও যখন ন্যায্যমূল্য মিলছে না, তখন অনেকেই আগামী মৌসুমে ভুট্টা চাষ থেকে সরে যাওয়ার চিন্তা করছেন। কৃষকদের প্রশ্ন—যে ফসল জেলার গর্ব, সেই ফসলের ন্যায্য দাম নিশ্চিত হবে কবে?

তাদের একটাই দাবি—সিন্ডিকেট ভেঙে কৃষকের ঘামে ফলানো ভুট্টার ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে দ্রুত সরকারি হস্তক্ষেপ।




ঢাকা ইনফো২৪

ঢাকা ইনফো২৪ (DhakaInfo24) একটি বাংলাদেশভিত্তিক অনলাইন নিউজ পোর্টাল, যেখানে সর্বশেষ ব্রেকিং নিউজ, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদ, রাজনীতি, অর্থনীতি, প্রযুক্তি এবং লাইফস্টাইল বিষয়ক আপডেট নিয়মিত প্রকাশ করা হয়।দ্রুত, নির্ভুল এবং নির্ভরযোগ্য তথ্য প্রদানই ঢাকা ইনফো২৪-এর মূল লক্ষ্য। আধুনিক সাংবাদিকতার মান বজায় রেখে পাঠকদের জন্য সর্বশেষ খবর সহজ ও স্পষ্টভাবে উপস্থাপন করতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।