গাইবান্ধায় পুকুরে গোসল করতে নেমে কিশোর রাহাত (১৫) নিহত হওয়ার ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা।
হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে অভিযুক্ত দুই কিশোরের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করেছেন নিহতের স্বজন ও বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। একপর্যায়ে বাড়িতে আগুন দেওয়ার চেষ্টাও করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
বুধবার (১৭ জুন) সদর উপজেলার রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের উত্তর হরিণ সিংহা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
অভিযুক্ত দুই কিশোর হলো একই গ্রামের জবান আলীর ছেলে সাকিব (১৫) এবং সাইদুল ইসলামের ছেলে রিফাত (১৫)। ঘটনার পর থেকেই তারা পলাতক রয়েছে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল ৮টার দিকে নিহত রাহাতের স্বজন, ওয়ারিশ ও ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা বাঁশের লাঠি ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে প্রথমে সাকিবের বাড়ি এবং পরে রিফাতের বাড়িতে হামলা চালান। এ সময় ঘরে ঢুকে আসবাবপত্র, থালা-বাসনসহ বিভিন্ন মালামাল ভাঙচুর করা হয়। অনেক জিনিসপত্র টেনে এনে পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়।
স্থানীয়দের দাবি, হামলার একপর্যায়ে কয়েকজন বিক্ষুব্ধ ব্যক্তি বাড়িতে আগুন দেওয়ারও চেষ্টা করেন। তবে আশপাশের বাসিন্দারা এগিয়ে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়। ঘটনার খবর পেয়ে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
গাইবান্ধা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, “পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”
এর আগে মঙ্গলবার (১৬ জুন) বিকেলে উত্তর হরিণ সিংহা গ্রামের হাওয়াই দিঘির মোড় এলাকার একটি বড় দিঘিতে গোসল করতে নামে স্থানীয় তিন কিশোর—রাহাত, সাকিব ও রিফাত। গোসলের সময় তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে সাকিব ও রিফাত মিলে রাহাতকে পানিতে চুবিয়ে রাখে বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে রাহাত গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে।
পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত দুই কিশোর পালিয়ে যায়।
রাহাতের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নিহতের স্বজনরা।
রোহান/সা.এ.