গাজীপুরের কালীগঞ্জে পল্লী বিদ্যুতের সার্ভিস লাইনের তার চুরির সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে জাহিদ হাসান আনন্দ (২৫) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় তার দুই সহযোগীকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।
দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেন।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) রাত প্রায় ১১টার দিকে কালীগঞ্জ পৌরসভার ঘোনাপাড়া এলাকায় ইউরো বাংলা গ্লাস ফ্যাক্টরির পাশের একটি স্থানে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত জাহিদ হাসান আনন্দ উপজেলার মূলগাঁও চরপাড়া এলাকার আমিন মিয়ার ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তিনি পেশায় অটোরিকশাচালক হলেও বিভিন্ন সময় চুরির ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।
পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, আনন্দ কয়েকজন সহযোগীকে নিয়ে ইউরো বাংলা গ্লাস ফ্যাক্টরি সংলগ্ন পল্লী বিদ্যুতের সার্ভিস লাইনের তার চুরির উদ্দেশ্যে সেখানে যান। একটি বৈদ্যুতিক খুঁটি থেকে বিচ্ছিন্ন একটি লাইনের তার কেটে নিয়ে যাওয়ার সময় অসতর্কতাবশত সেটি পাশের সচল বিদ্যুৎ লাইনের সংস্পর্শে আসে। মুহূর্তেই বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয়ে আনন্দ গুরুতরভাবে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন।
ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে। দুর্ঘটনার পর তার সঙ্গে থাকা সহযোগীরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে পালিয়ে যায়। পরে খবর পেয়ে কালীগঞ্জ থানা পুলিশ রাতেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
বুধবার সকালে ঘটনাটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা অভিযুক্ত দুই সহযোগীকে আটক করেন। পরে তাদের পুলিশে সোপর্দ করা হয়। আটকরা হলেন একই এলাকার সাইফুল ইসলামের ছেলে আশিক এবং বাঘেরপাড়া এলাকার অরুণের ছেলে খাইরুল। স্থানীয়দের দাবি, তাদের কাছ থেকে চুরি করা বৈদ্যুতিক তারও উদ্ধার করা হয়েছে।
এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, বিদ্যুতের অবকাঠামো থেকে তার চুরি শুধু অপরাধই নয়, এটি জননিরাপত্তার জন্যও বড় হুমকি। এমন কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
ওসি মো. জাকির হোসেন জানান, মরদেহের সুরতহাল সম্পন্ন করা হয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তিনি বলেন, “ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে।”
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
রোহান/সা.এ.