ইরান যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘ফলপ্রসূ আলোচনা’ ও ‘ঐকমত্যে’ পৌঁছানোর দাবি করলেও বিষয়টি নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। তেহরান ইতোমধ্যেই সরাসরি কোনো আলোচনা বা বৈঠকের বিষয়টি অস্বীকার করেছে। তবে পর্দার আড়ালে সংঘাত থামাতে তুরস্ক, রাশিয়া, পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশ কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।
সম্ভাব্য শান্তি আলোচনার ভেন্যু নিয়েও চলছে নানা জল্পনা। আগে উপসাগরীয় দেশ ওমানে আলোচনা চললেও সাম্প্রতিক সংঘাতের পর মাস্কাটকে আর উপযুক্ত স্থান হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে না। এদিকে ‘ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস’ জানিয়েছে, পাকিস্তান এখন যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে মধ্যস্থতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে চাইছে এবং সম্ভাব্য আলোচনার স্থান হিসেবে ইসলামাবাদের নাম প্রস্তাব করেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাকিস্তান তাদের সেনাপ্রধানের তেহরানের সঙ্গে সুসম্পর্ক এবং ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা কাজে লাগিয়ে কূটনৈতিক উদ্যোগ চালাচ্ছে। ইতোমধ্যে দেশটির সেনাপ্রধান আসিম মুনির মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র দাবি করছে, যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে তারা ইরানের সঙ্গে ইতিবাচক আলোচনা করেছে। তবে ইরান তা অস্বীকার করে বলেছে, কিছু আঞ্চলিক দেশের মাধ্যমে বার্তা আদান-প্রদান হলেও তাদের অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আসেনি। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি কিংবা যুদ্ধের শর্ত নিয়ে ইরানের অবস্থান অপরিবর্তিত।
এদিকে, বিভিন্ন সূত্রের বরাতে জানা গেছে, পাকিস্তান নেপথ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের মধ্যে যোগাযোগ স্থাপনে ভূমিকা রাখছে। পাশাপাশি মিশর, উপসাগরীয় দেশগুলোও বার্তা আদান-প্রদানে সক্রিয় রয়েছে। তুরস্কও শুরু থেকেই মধ্যস্থতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
তবে হোয়াইট হাউস এই আলোচনার বিস্তারিত প্রকাশ করতে রাজি হয়নি। প্রেস সেক্রেটারি জানিয়েছেন, এসব সংবেদনশীল কূটনৈতিক বিষয় গণমাধ্যমে আলোচনা করা হবে না।
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ চতুর্থ সপ্তাহে গড়ালেও কার্যকর যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা এখনো অনিশ্চিত। কূটনৈতিক প্রচেষ্টা মূলত প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো কাঠামো তৈরি হয়নি। তাদের মতে, উভয় পক্ষই এখনো ছাড় দেওয়ার অবস্থানে নেই, ফলে দ্রুত সমাধান আসার সম্ভাবনা কম।
কুশল/সাএ
