পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও বজ্রপাতের ঝুঁকি কমাতে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে যমুনা নদীর তীর রক্ষা বাঁধের দুই পাশে তালবীজ বপন কর্মসূচি শুরু হয়েছে। সাংবাদিক ও সমাজকর্মী আব্দুল্লাহ আল মাহমুদের ব্যক্তিগত উদ্যোগে এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। তিনি দীর্ঘ সাত বছর ধরে উপজেলার বিভিন্ন সড়কের পাশে ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সীমানায় তালবীজ বপন করে আসছেন।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) উপজেলার পাঁচিল এলাকা থেকে এনায়েতপুরগামী যমুনা নদীর তীর রক্ষা বাঁধের দুই পাশে তালবীজ বপন কর্মসূচির উদ্বোধন করেন শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাবরিনা শারমিন। এ সময় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন, জালালপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. আব্দুর রশিদসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
উদ্যোক্তা আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ জানান, গত সাত বছর ধরে তিনি শাহজাদপুরের বিভিন্ন সড়কের পাশে ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সীমানায় তালবীজ বপন করে আসছেন। গত পাঁচ বছরে তিনি প্রায় ৩০ হাজার তালবীজ বপন করেছেন। তাঁর বপন করা অনেক তালবীজ ইতিমধ্যে গাছে পরিণত হয়েছে। এসব তালগাছ এখন বিভিন্ন সড়কের পাশে দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে।
তিনি জানান, এর আগে গত দুই বছর ধরে যমুনা নদীর তীর রক্ষা বাঁধের দুই স্লোপে তিনটি করে সারিতে প্রায় ১০ ফুট পরপর তালবীজ বপন করা হয়েছে। জিরো পয়েন্ট থেকে জগতলা পর্যন্ত প্রায় চার কিলোমিটার এলাকায় বপন করা এসব তালবীজের বেশ কিছু ইতিমধ্যে তালগাছে পরিণত হয়েছে।
কর্মসূচির উদ্বোধনকালে ইউএনও সাবরিনা শারমিন বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই। তালগাছ পরিবেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাংবাদিক ও সমাজকর্মী আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ গত সাত বছর ধরে যে উদ্যোগ চালিয়ে যাচ্ছেন, তা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, তালগাছ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি তাল থেকে রস, পিঠা-পায়েসসহ বিভিন্ন খাদ্য তৈরি হয়, যা গ্রামীণ অর্থনীতিতেও অবদান রাখে।
সাংবাদিক ও সমাজকর্মী আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বলেন, ‘গত সাত বছর ধরে শাহজাদপুরের বিভিন্ন সড়কের পাশে ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সীমানায় তালবীজ বপন করে আসছি। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, বজ্রপাতের ঝুঁকি কমানো এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সবুজ পরিবেশ নিশ্চিত করতেই এ উদ্যোগ অব্যাহত রাখতে চাই।’