কোমোর ইউরোপীয় ফুটবলে এই উত্থান যেন এক রূপকথার গল্প। বৃহস্পতিবার রাতে সেই রূপকথার পালে এক নতুন হাওয়া দিল সেস্ক ফ্যাব্রেগাসের দল। চ্যাম্পিয়নস লিগে নিজেদের ইতিহাসের প্রথম ম্যাচেই জার্মান জায়ান্ট আরবি লাইপজিগকে ৪-১ গোলে বিধ্বস্ত করে নিজেদের আগমনী বার্তা জানান দিল তারা।
অভিষেকের কোনো স্নায়ুচাপ না দেখিয়ে, অভিজ্ঞ পরাশক্তিদের মতো দারুণ এক জয় তুলে নিয়েছে কোমোর ফুটবলাররা। ম্যাচের আগে কোচ ফ্যাব্রেগাস এই লড়াইয়ের গুরুত্ব কিছুটা হালকা করার চেষ্টা করে বলেছিলেন, ‘লাইপজিগের বিরুদ্ধে এটি আর দশটা সাধারণ ম্যাচের মতোই।’
কোচ মানসিক কৌশলে সফল হয়েছেন পুরোপুরি। ঘরের মাঠের রোমাঞ্চ আর দর্শকদের উন্মাদনায় যেখানে লাইপজিগকে দিশাহারা লেগেছে, সেখানে কোমোর ফুটবলাররা খেলেছেন বুক চিতিয়ে, যেন ইউরোপের সেরা অভিজাত ক্লাবের সারিতেই তাদের জন্ম।
ম্যাচ শুরুর আগে আলোচনার কেন্দ্রে ছিলেন নিকো পাজ। শতভাগ ফিট না থাকা সত্ত্বেও পাজ চমৎকার দুটি অ্যাসিস্ট করে নিজের জাত চিনিয়েছেন। তবে বৃহস্পতিবারের রাতটি ছিল মার্টিন বাতুরিনার। তাসোস দুভিকাসের বাড়ানো পাস ধরে জাদুকরী এক ফিনিশিংয়ে কোমোকে চ্যাম্পিয়নস লিগের ইতিহাসের প্রথম গোলটি উপহার দেন এই ক্রোয়েশিয়ান প্লে-মেকার।
বাতুরিনাকে দারুণ সঙ্গ দিয়েছেন আসামানে দিয়াও। কোমোতে চড়াই-উতরাইয়ের মধ্য দিয়ে যাওয়া দিয়াও গত মৌসুমের ইনজুরি কাটিয়ে যেন আবার সেই চেনা রূপে ফিরেছেন। উইং ধরে তিনি লিপজিগের রক্ষণভাগকে প্রতিনিয়ত তটস্থ রাখেন। ম্যাচের ৫৪ মিনিটে পাজের বানিয়ে দেওয়া বল থেকে নিখুঁত শটে দলের তৃতীয় গোলটি করেন এই ফরোয়ার্ড। অন্যদিকে দুভিকাস আধুনিক ‘নাম্বার নাইন’-এর ভূমিকা পালন করে দলকে উপহার দেন ভারসাম্য। আর ইনজুরি টাইমে পাজের দুর্দান্ত এক থ্রু-বল ধরে ৪-১ গোলের শেষ পেরেকটি ঠুকে দেন বিকল্প হিসেবে নামা মাক্সিমো পেরোনে।
কোমোর প্রতিটা আক্রমণ, প্রতিটা মুভমেন্ট যেন ডাগআউটে দাঁড়িয়ে থাকা ফ্যাব্রেগাসের ছকে আঁকা। শুধু রক্ষণ সামলে ড্র করার মানসিকতা এই দলের ছিল না। প্রতিপক্ষকে একমুহূর্ত স্বস্তি না দেওয়ার লক্ষ্যেই নেমেছিল তারা। মিড-ব্লক থেকে আকস্মিক হাই-প্রেসিংয়ে লাইপজিগ কখনোই খেলায় গুছিয়ে উঠতে পারেনি।
দ্বিতীয়ার্ধে লাইপজিগ ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলেও কোমোর খেলোয়াড়রা এতটুকু বিচলিত হননি। উল্টো পাসের গতি ও ড্রিবলিংয়ের টেকনিক দিয়ে চাপ সামলেছেন তারা।