ঢাকা, শুক্রবার ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩
ঢাকা, শুক্রবার ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩
ছোট্ট একটি পুরনো টিনের ঘরের কোণায় কাঠের চৌকি। তার ওপর সারি করে রাখা অল্প কিছু চানাচুর, কেক, বিস্কুট সহ নানা ধরনের মুদি পণ্য। টিনের বেড়াতেও ঝুলছে কয়েকটি প্যাকেট। পাশে তিন-চারটি প্লাস্টিকের চেয়ার। কাঠের একটি টেবিলে রাখা ফ্লাস্ক, কয়েকটি কাপ ও চায়ের পাতা। সব মিলিয়ে হতে পারে আড়াই থেকে তিন হাজার টাকার পণ্য। এই ছোট দোকানটিই ২৮ বছর বয়সী হারুনের ভরসা। দোকান থেকে দিনে ২০০ থেকে ২৫০ টাকা আয় হয়। সেই আয়েই চলে বাবা-মা, এক ভাগনিকে নিয়ে চারজনের সংসার। প্রতিবন্ধী হারুনের বাড়ি সিরাজগঞ্জের কাজীপুর উপজেলার খাসরাজবাড়ী চরে। কয়েক বছর আগে যমুনার হিংস্র থাবায় হায়িছে বাপ-দাদার বাড়ি। এখন অন্যের জায়গায় টিনের ঘর তুলে বসবাস করেন তাঁরা। সম্প্রতি হারুনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আমাদের বাড়ি নদীর পাশেই ছিল। বছর খানেক আগে নদীতে ভেঙে গেছে। এরপর অন্যের জায়গায় ঘর তুলে থাকছি। নিজের জায়গা-জমি কিছুই নেই। ছোটবেলায় স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছিলেন হারুন। একদিকে নদীভাঙন অপরদিকে দারিদ্রতার কষাঘাতে তার পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যায়। দুই বোনের একজনের বিয়ে হয়েছে গ্রামেই। আরেকজন ঢাকায় থাকেন এবং চাকরি করেন। সকাল থেকে ছোট দোকানটিতে বসেন হারুন। দিন শেষে ২০০ থেকে ২৫০ টাকার মতো আয় হয়। দোকানের কাজে তাঁকে সহযোগিতা করেন তাঁর বৃদ্ধ বাবা সাত্তার শেখ। হারুন বলেন, ‘দোকানের আয় আর তিন মাস পরপর ২ হাজার ৫০০ টাকা প্রতিবন্ধী ভাতা পাই। সব মিলিয়ে সংসার চালাতে কষ্ট হয়।’ বাড়ির কাজের জন্য সে ঘর বেঁধেছিল কিন্তু দারিদ্রতায় জর্জরিত পরিবারের স্ত্রী এক বছর পর তাঁকে ছেড়ে চলে যান। পাশে বসে থাকা বৃদ্ধ বাবার দিকে তাকিয়ে হারুন বলেন, ‘বাবা-মা বৃদ্ধ হয়ে গেছে। তাঁদের কষ্ট দেখলে ভালো লাগে না।’ সরকারের কাছে নিজের জন্য কোনো চাওয়া আছে কি না জানতে চাইলে হারুন নিজের কথা না বলে চরের মানুষের কথাই বলেন। তাঁর ভাষায়, চরের মানুষের অনেক কষ্ট। নদীভাঙনে অনেকের ঘরবাড়ি চলে গেছে। মানুষের সমস্যাগুলো সরকার খোঁজ নিয়ে সমাধান করলেই তিনি খুশি। প্রমত্তা যমুনা হারুনের বাড়ি কেড়ে নিয়েছে। থেমে গেছে পড়াশোনা, টেকেনি সংসার। এখন অন্যের জায়গায় ছোট্ট টিনের ঘর আর কয়েক হাজার টাকার মুদি পণ্য সাজানো দোকানটিই তাঁর ভরসা। যমুনার পাড়ে সেই ছোট্ট দোকানে বসে প্রতিদিন ক্রেতার অপেক্ষা করেন হারুন। কেউ এলে হয়তো কয়েক টাকার বিস্কুট, চানাচুর কিংবা এক কাপ চা বিক্রি হবে। আর সেই বিক্রির টাকাতেই চলবে তাঁর পরিবারের আরেকটি দিন। আজ শুধু প্রতিবন্ধি হারুনই নয় যমুনা চরের অনেক মানুষই বেচে থাকার সংগ্রামে লিপ্ত। এসকল সহায় সম্বলহীন মানুষের পাশে দাড়ানোর জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন কাজিপুরের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ মোজ্জামেল হক বকুল।
ফোন: +৮৮০৯৬১১৪৫১৮৭১
সোশ্যাল মিডিয়াতে আমরা
ই-মেইল: [email protected]