গাজায় মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর পথ পুরোপুরি চালু না হওয়ায় ইসরায়েলের সমালোচনা করেছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে তিনি বলেন, শান্তি প্রতিষ্ঠার কথা বলা হলেও গাজায় সহায়তা পৌঁছানোর সুযোগ নিশ্চিত না হওয়া ‘লজ্জার’ বিষয়।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে দেওয়া বক্তব্যে এসব কথা বলেন ম্যাক্রোঁ। একই সঙ্গে গাজার পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নিষ্ক্রিয়তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
একই দিন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র ও দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের পক্ষে আয়োজিত বৈঠকে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ, যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম ও কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি অংশ নেন। সৌদি আরবও এ উদ্যোগে যুক্ত ছিল। এর আগে গত বছর তিন দেশই ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেয়।
বৈঠকে বার্নহাম বলেন, দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে দীর্ঘদিন ধরে এ বিষয়ে কথা বলা রাজনীতিকদের প্রতি মানুষের আস্থা আরও কমবে। তিনি জানান, পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি থেকে পণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করেছে যুক্তরাজ্য। তাঁর মতে, ই১ বসতি সম্প্রসারণ পরিকল্পনা দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের পথে বাধা তৈরি করছে।
অন্যদিকে, ফিলিস্তিনিদের জন্য ১০ কোটি কানাডিয়ান ডলার সহায়তার ঘোষণা দিয়েছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। এর ৮০ শতাংশ সরাসরি মানবিক সহায়তায় এবং বাকি ২০ শতাংশ শান্তি ও নিরাপত্তা কার্যক্রমে ব্যয় করা হবে। এর আওতায় পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি পুলিশকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার কানাডার দীর্ঘমেয়াদি কর্মসূচিও রয়েছে।
কার্নি বলেন, গাজার ফিলিস্তিনিরা এখনো ব্যাপক মানবিক দুর্ভোগের মধ্যে রয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি ই১ বসতি প্রকল্পের সমালোচনা করে ওই বসতিতে উৎপাদিত পণ্যের বিরুদ্ধে বাণিজ্যিক বিধিনিষেধ আরোপের কথা জানান।
ম্যাক্রোঁ পশ্চিম তীরের ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণেরও সমালোচনা করেছেন। ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য ও কানাডা এর আগে যৌথভাবে জানিয়েছিল, পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণ দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের জন্য সরাসরি হুমকি। তিন দেশ বসতি থেকে পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে লক্ষ্যভিত্তিক ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগের কথাও জানিয়েছে।