পায়ে হেঁটে সৌদি আরবের মক্কায় গিয়ে পবিত্র হজ পালনের স্বপ্ন নিয়ে নাটোরের সিংড়া থেকে যাত্রা শুরু করেছিলেন দুলাল হোসেন। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে যশোরের বেনাপোল সীমান্তে পৌঁছালেও প্রয়োজনীয় ভারতীয় ভিসা না থাকায় দেশটির সীমান্ত অতিক্রম করতে পারেননি তিনি। ফলে আপাতত থেমে গেছে তার হজযাত্রা। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বাধ্য হয়ে নিজ গ্রামে ফিরে এসেছেন তিনি।
দুলাল হোসেন নাটোরের সিংড়া উপজেলার ডাহিয়া ইউনিয়নের তাড়াই বড়ইচোরা গ্রামের মৃত মকসেদ আলী ও পিয়ারা বেগমের ছেলে। মহান আল্লাহর ঘর কাবা শরিফ জিয়ারত ও পবিত্র হজ পালনের আকাঙ্ক্ষায় গত ৪ আগস্ট নিজ গ্রাম থেকে পায়ে হেঁটে মক্কার উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেন তিনি।
পথে বিভিন্ন প্রতিকূলতা পেরিয়ে দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে বেনাপোল সীমান্তে পৌঁছান দুলাল। কিন্তু ভারতীয় ভিসা না থাকায় সীমান্ত কর্তৃপক্ষ তাকে ভারতে প্রবেশের অনুমতি দেয়নি। এতে মক্কার পথে তার যাত্রা আপাতত স্থগিত হয়ে যায়। পরে বুধবার তিনি নিজ গ্রামে ফিরে আসেন।
দুলাল বাড়ি ফেরার পর তাকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে কৌতূহল তৈরি হয়েছে। প্রতিবেশী ও গ্রামবাসী তার দীর্ঘ পথচলার অভিজ্ঞতা শুনতে তার কাছে ভিড় করছেন। তার এই উদ্যোগকে সাহসিকতা ও আল্লাহর ঘরে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে তার স্বপ্ন পূরণের জন্য দোয়া করছেন তারা।
দুলাল হোসেন বলেন, মহান আল্লাহর ঘরে যাওয়ার ব্যাকুলতা থেকেই তিনি পায়ে হেঁটে মক্কার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন। পথে নানা প্রতিকূলতা এলেও আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে তিনি বেনাপোল পর্যন্ত পৌঁছান। তবে প্রয়োজনীয় ভিসা না থাকায় সেখানে গিয়ে তাকে ফিরে আসতে হয়েছে।
তিনি জানান, প্রয়োজনীয় ভিসা ও সফরসংক্রান্ত অন্যান্য কাগজপত্র প্রস্তুতের কাজে একজন ব্যক্তি তাকে সহযোগিতা করছেন। দ্রুত এসব কাগজপত্র প্রস্তুত করে ভিসা পাওয়ার আশা করছেন তিনি। কাগজপত্র হাতে পেলেই আবারও পায়ে হেঁটে মক্কার উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করবেন বলে জানান দুলাল।
ক্যাপশন: পায়ে হেঁটে মক্কার উদ্দেশ্যে যাত্রা করা দুলাল হোসেন ভিসা জটিলতায় বেনাপোল সীমান্ত থেকে নিজ গ্রামে ফিরে এসেছেন।