কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার সহশ্রাম ধুলদিয়া ইউনিয়নের পশ্চিম সহশ্রাম কৈতরীপাড়ার তিন কিলোমিটার সড়কের খানাখন্দে পড়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন দুই গ্রামের হাজারও মানুষ। দীর্ঘদিনের সংস্কারহীন এই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষার্থী ও রোগীরা।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পশ্চিম সহশ্রাম ও কৈতরীপাড়া গ্রামের প্রধান সড়কটির বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টি হলে এসব গর্তে পানি জমে সড়কটি প্রায় চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে। এর ফলে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন শিক্ষার্থী, গর্ভবতী নারী, বৃদ্ধ ও অসুস্থ রোগীরা।
সহশ্রাম ছাইমুন্নেচ্ছা ফাযিল মাদরাসার ১০ম শ্রেণির শিক্ষার্থী সিয়াম আহমেদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলে, রাস্তার যে অবস্থা, হেঁটে মাদরাসায় যাওয়াও দায় হয়ে পড়েছে। বৃষ্টির দিনে পোশাক নষ্ট হয়ে যায়, জুতা হাতে নিয়ে কাদাপানি পেরিয়ে যেতে হয়। অনেক সময় রিকশা বা গাড়ি উল্টে সহপাঠীরা আহতও হয়েছে। সড়কটি দ্রুত ঠিক না করলে আমাদের পড়ালেখার চরম ক্ষতি হচ্ছে।
ভোগান্তির কথা জানাতে গিয়ে কৈতরীপাড়া গ্রামের গর্ভবতী নারী মদিনা বেগম বলেন, আমাদের মতো গর্ভবতী আর বয়স্ক রোগীদের জন্য এই রাস্তাটি যেন একটা মৃত্যুর ফাঁদ। কোনো জরুরি প্রয়োজনে হাসপাতালে যেতে চাইলে গাড়ি আসতে চায় না। ঝাঁকুনিতে পেটের সন্তান নিয়ে ভয়ে থাকতে হয়। গত সপ্তাহেও এক প্রসূতিকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে রাস্তায়ই প্রসবের মতো ঘটনা ঘটেছে। আমরা এই কষ্ট থেকে দ্রুত মুক্তি চাই।
সহশ্রাম ধুলদিয়া ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান মহরম আলী বলেন, রাস্তাটির বেহাল দশার কথা আমি অবগত আছি। বিগত দিনে কাঙ্ক্ষিত বরাদ্দ না পাওয়ায় সংস্কার কাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি। তবে ইতোমধ্যে এলজিইডি অফিসে নতুন প্রকল্প পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পাস হলেই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সড়কটি পাকা করার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।