কুমিল্লার বিভিন্ন রেলক্রসিংয়ে অরক্ষিত ব্যবস্থাপনা দূর করে ক্রমবর্ধমান ট্রেন দুর্ঘটনা রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবিতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কুমিল্লা মহানগরীর উদ্যোগে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার বিকেল ৪টায় নগরীর প্রাণকেন্দ্র কান্দিরপাড় এলাকায় অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ও সর্বস্তরের জনসাধারণ অংশগ্রহণ করেন। মানববন্ধন শেষে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে রেলপথ মন্ত্রীর বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
এসময় জামায়াত ৫ দফা দাবি উত্থাপন করে। দাবিগুলো হলো— সকল অরক্ষিত রেলক্রসিংয়ে দক্ষ গেটম্যান নিয়োগ, আধুনিক গেটবার ও সিগন্যাল বাতির ব্যবস্থা নিশ্চিত করা, অবৈধ ক্রসিং বন্ধ বা নিয়ম অনুযায়ী সংস্কার, রেললাইন সংলগ্ন অবৈধ দখল উচ্ছেদ ও জনসচেতনতা বৃদ্ধি, এবং সাম্প্রতিক দুর্ঘটনাগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনা।
কুমিল্লা মহানগরী জামায়াতের আমীর ও কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য কাজী দ্বীন মোহাম্মদের সভাপতিত্বে এবং মহানগরী সেক্রেটারি মু. মাহবুবর রহমানের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, “দেশের জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। অথচ কুমিল্লার অধিকাংশ রেলক্রসিং আজও অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে, যা চরম অবহেলার পরিচায়ক।” তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সবসময় জনগণের নিরাপত্তা ও কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে। রেলক্রসিংগুলোতে আধুনিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত না করলে দুর্ঘটনা রোধ করা সম্ভব নয়।”
এসময় বক্তব্য রাখেন মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমীর মোহাম্মদ মোসলেহ উদ্দিন, মহানগরী জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মো. কামারুজ্জামান সোহেল, কাউন্সিলর মোশাররফ হোসাইন, অ্যাডভোকেট নাছির আহম্মেদ মোল্লাসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। বক্তারা বলেন, রেলক্রসিংগুলোতে পর্যাপ্ত গেটম্যান, সিগন্যাল ব্যবস্থা ও আধুনিক গেটবার না থাকায় প্রতিনিয়ত সাধারণ মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। তারা অবিলম্বে প্রতিটি রেলক্রসিংয়ে আধুনিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু, অবৈধ দখলমুক্ত করা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানান। বক্তারা আরও বলেন, জনগণের স্বার্থে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী অতীতের মতো ভবিষ্যতেও সোচ্চার থাকবে এবং প্রয়োজন হলে আরও কঠোর কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, কুমিল্লার বিভিন্ন এলাকায় অরক্ষিত ও অবৈধ রেলক্রসিংয়ের সংখ্যা উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনা ঘটছে। এতে অসংখ্য প্রাণহানি ও পঙ্গুত্বের ঘটনা ঘটছে, যা জনমনে চরম আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। এতে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়, গত ২১ মার্চ কুমিল্লার পদুয়ার বাজার বিশ্বরোডে ট্রেন ও বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে ১২ জন নিহত এবং অনেকে আহত হন। সংশ্লিষ্ট ক্রসিংয়ে গেটম্যানের অবহেলা ও নিরাপত্তাহীনতাকেই এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
কুশল/সাএ
