ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের প্রস্তুতির অভিযোগ তুলে পদত্যাগ করেছেন জাতিসংঘ সংশ্লিষ্ট এক কূটনীতিক। বিষয়টি ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
প্রায় ১২ বছর ধরে জাতিসংঘে প্যাট্রিয়টিক ভিশন অর্গানাইজেশন (পিভিএ)-এর স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করা মোহাম্মদ সাফা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া একাধিক পোস্টে জানান, তিনি “মানবতার বিরুদ্ধে সম্ভাব্য অপরাধের সাক্ষী থাকতে না চেয়ে” নিজের কূটনৈতিক ক্যারিয়ার ছেড়ে দিচ্ছেন।
সাফার দাবি, জাতিসংঘের ভেতরে ইরানের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের একটি সম্ভাব্য পরিস্থিতি নিয়ে প্রস্তুতি চলছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, “মানুষ পরিস্থিতির ভয়াবহতা বুঝতে পারছে না। ইরানে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে,” উল্লেখ করে তিনি ‘নিউক্লিয়ার উইন্টার’-এর আশঙ্কাও প্রকাশ করেন।
তার অভিযোগ, জাতিসংঘের শীর্ষ পর্যায়ের কিছু কর্মকর্তা একটি ‘প্রভাবশালী লবি’র স্বার্থ রক্ষায় কাজ করছেন এবং ভিন্নমত দমন করছেন। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, ইরানের পারমাণবিক হুমকি নিয়ে একটি “ভুল তথ্য প্রচার” চালানো হচ্ছে, যার মাধ্যমে বৃহত্তর যুদ্ধের পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে।
জাতিসংঘ-এর বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন সাফা। তার ভাষায়, সংস্থার কিছু সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী ইচ্ছাকৃতভাবে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগগুলোকে আড়াল করছেন এবং বিভিন্ন সংঘাতের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরতে ব্যর্থ হচ্ছেন।
পদত্যাগপত্রে তিনি আরও উল্লেখ করেন, ভিন্ন মত প্রকাশের কারণে তিনি ও তার পরিবার হুমকির মুখে পড়েছিলেন। এমন পরিস্থিতিতে দায়িত্ব পালন চালিয়ে যাওয়া সম্ভব ছিল না বলেও জানান তিনি।
তবে সাফার এসব অভিযোগের বিষয়ে জাতিসংঘের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
সূত্র: ইকোনমিক টাইমস.
