শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কার্যালয়ের স্টিলের আলমারি থেকে টাকা চুরির দায়ে তুষার দাস নামে (২৮) এক পরিচ্ছন্নতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
সোমবার (২৯ মার্চ) গভীর রাতে শরীয়তপুর সদর উপজেলা স্বর্নঘোষ এলাকা তার নিজ বাসা থেকে গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তীতে তার শিকারোক্তি মোতাবেক ওই রাতেই অভিযান চালিয়ে খোয়া যাওয়া চোরাই টাকাসহ আরোও ১ জনকে গ্রেফতার করা হয়।
উপজেলা প্রশাসন ও এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ মার্চ ভেদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কার্যালয়ের সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক জাকির হোসেন খাঁন এর কক্ষের একটি স্টিলের আলমারিতে ২৬ শে মার্চ ব্যায়ের জন্য রক্ষিত ৪ লাখ ৬ হাজার টাকা ছিল। ২৫ মার্চ সকালে এসে জাকির হোসেন খাঁন সেই কক্ষে প্রবেশ করে স্টিলের আলমারির তালা খুলতে চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। পরে মিস্ত্রি এনে তালা খুলতে গিয়ে দেখা যায় ভিতর থেকে তালাটা ভাঙা। আলমারিতে রাখা নগদ ৪ লাখ ৬ হাজার টাকা ও হাটবাজার খাস আদায়ের ১৪ লাখ, আড়াই লক্ষ টাকার দুটি পে-অর্ডার নাই। রুমে খোঁজাখুঁজিরপর পে অর্ডার দুটি ছেড়া অবস্থায় পাওয়া যায়। কিন্তু টাকা পাওয়া যায় নি। সিসিটিভির ফুটেজ বিশ্লেষণ এর মাধ্যমে পরিচ্ছন্নতা কর্মী তুষার দাসের ওই কক্ষে সন্দেহজনক যাতায়াতের চিত্র দেখা যায়। পরে জাকির হোসেন খাঁন বাদি হয়ে ভেদরগঞ্জ থানায় একটি এজাহার দায়ের করেন।
এজাহারের প্রেক্ষিতে পুলিশ তুষার দাসকে শরীয়তপুর পৌরসভার স্বর্নঘোষ এলাকার নিজ বাসা থেকে গ্রেফতার করে। প্রাথমিক জিজ্ঞেসাবাদে তুষার দাসের স্বিকারোক্তি মোতাবেক অভিযান চালিয়ে গোপালগঞ্জ জেলার সদর থানার থানা পাড়া হেয়ায়েত শেখের ভাড়া বাসা থেকে সুবর্না হিরার নামের একনারীর কাছে চুরি করে নিয়ে গচ্ছিত রাখা ২ লাখ ৯৭ হাজার পাচশত টাকা উদ্ধার করে পুলিশ সুবর্না হিরাকে আটক করে।
বাদি জাকির হোসেন খাঁন বলেন, সিসিটিভির ফুটেজ পর্যালোচনা করে আমরা তাকে সন্দেহ করেছিলাম। এছাড়া এর আগে গোসাইরহাট উপজেলায়ও চুরির দায়ে অভিযুক্ত হয়ে শাস্তিমূলক বদলি হিসাবে তাকে এ উপজেলায় দেয়া হয়েছিল।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাফিজুল হক বলেন, চুরির ঘটনায় থানায় একটি মামলা হয়েছে। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে। তদন্তে অবশ্যই অপরাধীরা ধরা পড়বে।
ভেদরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবুল বাশার বলেন, চুরির ঘটনায় এজাহারের ভিক্তিতে পরিচ্ছন্নতা কর্মী তুষার দাসকে আমরা গ্রেফতার করি। প্রাথমিক জিগ্যেসাবাদে তার শিকারোক্তি ও তারদেয়া তথ্যমতে অভিযান চালিয়ে গোপালগঞ্জ জেলা থেকে চুরি হওয়া টাকা উদ্ধার ও সুবর্না নামে এক নারীকে গ্রেফতার করেছি। আসামীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
কুশল/সাএ
