বাংলাদেশ, পাকিস্তানসহ এশিয়ার কয়েকটি দেশে নভেম্বর পর্যন্ত তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ করতে পারবে না কাতারএনার্জি। হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় সরবরাহব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে, তাই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দেশটির রাষ্ট্রয়াত্ত্ব কোম্পানি কাতারএনার্জি অক্টোবর পর্যন্ত ‘ফোর্স মেজর’ ঘোষণা করেছিল। কিন্তু এখন এটি নভেম্বর পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়েছে। খবর রয়টার্সের।
কোনো কোম্পানি যখন তার ব্যবসায়িক চুক্তি পূর্ণ করতে ব্যর্থ হয় তখন ফোর্স মেজর ঘোষণা করে। এর মাধ্যমে দায়বদ্ধতা থেকে মুক্তি পায়।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) এক প্রতিবেদনে বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ইতালির এডিসন ও দক্ষিণ এশিয়ার বাংলাদেশ-পাকিস্তানসহ কয়েকটি দেশের কাছে এ সংক্রান্ত নোটিশ পাঠিয়েছে কাতারএনার্জি।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি দখলদার ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র বিনা উস্কানিতে ইরানে যৌথ হামলা চালায়। এর জবাবে ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়। এতে করে কাতারের গ্যাস সরবরাহও থমকে যায়।
গত এপ্রিলে দেশটি প্রথম ফোর্স মেজর নোটিশ দেয়। এখন এটি নভেম্বর পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়েছে। দুটি বাণিজ্যিক সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছেন, বাংলাদেশকে এ ব্যাপারে অবহিত করা হয়েছে।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের অন্যতম ক্ষতিগ্রস্ত দেশ হলো কাতার। রয়টার্স জানিয়েছে, আগস্টের শেষ পর্যন্ত হিসাব করে দেখা গেছে কাতারের গ্যাস রপ্তানি ৯৬ শতাংশ কমে গেছে।
দেশটি আগস্টের শেষ পর্যন্ত মাত্র ১৮ কার্গো গ্যাস রপ্তানি করেছে। যেখানে গত বছর একই সময়ে এই সংখ্যাটি ছিল ৫০৯ কার্গো।
যেহেতু কিছুদিন পরই শীত মৌসুম শুরু হচ্ছে, তাই ইউরোপে গ্যাসের চাহিদা বেড়ে যাবে। এ কারণে তাদের এখন অন্য জায়গা থেকে গ্যাসের খোঁজ করতে হবে।
যেহেতু ইউরোপে চাহিদা বাড়বে তাই এটি এশিয়ার ক্রেতাদের মধ্যে প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি করবে। ফলে গ্যাসের দামও বাড়তির দিকে থাকবে।