ফ্রান্সজুড়ে উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের আন্দোলন গতকাল বৃহস্পতিবার আরও বিস্তৃত হয়েছে। শিক্ষা খাতে অতিরিক্ত অর্থ ও উন্নত সুযোগ-সুবিধার দাবিতে চলমান বিক্ষোভের মধ্যে দেশটির শিক্ষামন্ত্রী এদুয়ার জেফ্রে জানিয়েছেন, শুক্রবার ৪০০টির বেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে। এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের দূরশিক্ষণের মাধ্যমে ক্লাস করার কথা রয়েছে।
ফ্রান্সের শিক্ষামন্ত্রী এদুয়ার্দ জেফ্রে জানিয়েছেন, কিছু প্রতিষ্ঠানে অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং কর্মীদের ওপর হামলার কারণে নিরাপত্তাজনিত সিদ্ধান্ত হিসেবে প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ রাখা হচ্ছে। একই সঙ্গে তিনি আন্দোলনের সঙ্গে সংলাপ চালিয়ে যাওয়ার কথাও জানিয়েছেন।
শশুক্রবার শিক্ষার্থীদের সংগঠন, অভিভাবক সংগঠন, শিক্ষা খাতের প্রতিনিধিত্বকারী ট্রেড ইউনিয়ন এবং জাতীয় উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষার্থী পরিষদের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করবেন জেফ্রে। তিনি আলোচনার মাধ্যমে শিক্ষার্থী, শিক্ষক-কর্মচারী ও শিক্ষাব্যবস্থার জন্য বাস্তব অগ্রগতি আনার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন।
আন্দোলনের মধ্যে সরকার একটি প্রস্তাবিত আর্থিক ব্যবস্থা প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছে। বাজেট প্রস্তাবে বৃত্তিবিহীন শিক্ষার্থীদের জন্য বেতেএস কোর্সে ১৭৮ ইউরো এবং উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান -এর প্রস্তুতিমূলক শ্রেণিতে ২৭০ ইউরো নিবন্ধন ফি আরোপের কথা ছিল। শিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, সরকার এই প্রস্তাব প্রত্যাহার করছে।
ফরাসি গণমাধ্যম ল্য মোঁদ-এর তথ্য অনুযায়ী, এই ব্যবস্থা প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে প্রস্তাবিত হলেও শিক্ষা ও উচ্চশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের সমর্থন ছিল না। আন্দোলন অব্যাহত থাকার প্রেক্ষাপটে প্রস্তাবটি প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে।
ফরাসি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, বৃহস্পতিবার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে ১,৯৪৯ জনকে আটক করা হয়েছে। অন্যদিকে বিচার মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সোমবার থেকে এ আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ঘটনায় ১,৭৯৩ জনকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
শিক্ষামন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আন্দোলন শুরুর পর শিক্ষা খাতের ৬৫ জন কর্মী এবং ১৭০ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের প্রধানও অবরোধের সময় হামলা বা হেনস্তার শিকার হয়েছেন বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর বরাত দিয়ে ফরাসি গণমাধ্যম ল্য মোঁদ জানিয়েছে।
শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ফ্রান্সে রাজনৈতিক বিতর্কও তীব্র হয়েছে। সরকার ও ডানপন্থী রাজনৈতিক মহলের কয়েকজন নেতা আন্দোলনের সহিংসতার ঘটনায় লা ফ্রঁস আঁসুমিজ (এলএফই)-এর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। এলএফই এই পরিস্থিতির দায় সরকারের ওপর দিয়েছে। এসব অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।
বৃহস্পতিবার রাতে ফ্রান্স ২ ও ফ্রাঁস আঁতের-এর যৌথ রাজনৈতিক বিতর্ক অনুষ্ঠানেও শিক্ষার্থীদের আন্দোলন প্রধান আলোচ্য হয়ে ওঠে। বিভিন্ন বামপন্থী রাজনৈতিক নেতা শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো নিয়ে সংলাপের প্রয়োজনীয়তার কথা বললেও সহিংসতার ঘটনাগুলোর নিন্দা জানিয়েছেন।
এদিকে বিচারমন্ত্রী জেরাল্ড দারমানাঁ বৃহস্পতিবার দেশের ৩৬ জন প্রসিকিউটর জেনারেলের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেছেন। আন্দোলনের সময় সংঘটিত অপরাধের ক্ষেত্রে আইনি ব্যবস্থার প্রতিক্রিয়া নিয়ে সেখানে আলোচনা হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের আন্দোলন এখন ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরের পাশাপাশি কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসেও ছড়িয়ে পড়েছে। শুক্রবারের বৈঠক ও ৪০০-এর বেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তের পর আন্দোলনের পরবর্তী গতিপথের দিকে নজর থাকবে।