ঢাকা, রোববার ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩
ঢাকা, রোববার ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩
ভোলার চরফ্যাশন উপজেলায় হাসপাতাল রোডে অবস্থিত আল-ইনসাফ ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে রোগী ও স্বজনদের হয়রানি, বাইরে থেকে পরীক্ষা করিয়ে আনলে সিরিয়ালে পিছিয়ে দেওয়া এবং বিভিন্ন পরীক্ষায় তুলনামূলক বেশি ফি নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
শনিবার রাতে সাত মাস বয়সী শিশু আরহাম অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে চিকিৎসার জন্য আল-ইনসাফ ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক রবীন তালুকদারকে দেখাতে ৬০০ টাকা ভিজিট দেন শিশুটির স্বজনরা। পরে চিকিৎসক শিশুটিকে এক্স-রে করানোর পরামর্শ দেন। শিশুটির স্বজনদের অভিযোগ, এক্স-রে করানোর জন্য ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কাউন্টারে গেলে পরীক্ষার জন্য তুলনামূলক বেশি টাকা দাবি করা হয়। পরে তারা বাইরে একটি প্রতিষ্ঠানে এক্স-রে করিয়ে রিপোর্ট নিয়ে আবার আল-ইনসাফ ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ফিরে আসেন। স্বজনদের দাবি বাইরে থেকে পরীক্ষা করিয়ে ফেরার পর তাদের জানানো হয়, ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বাইরে থেকে পরীক্ষা করিয়ে আসা রোগীদের অপেক্ষা করতে হবে। আগে সিরিয়াল থাকলেও প্রতিষ্ঠানের ভেতরে পরীক্ষা করানো রোগীদের চিকিৎসক দেখানোর পর তাদের সুযোগ দেওয়া হবে। এতে অসুস্থ শিশুটিকে নিয়ে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। এক রোগীর স্বজন বলেন, আমরা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পরীক্ষা করিয়েছি। কোথায় পরীক্ষা করাব, সেটি রোগী ও স্বজনের বিষয়। বাইরে থেকে পরীক্ষা করিয়ে আসার কারণে যদি সিরিয়ালে পিছিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে এটি রোগীর জন্য হয়রানির মতো। এদিকে নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন রোগীর স্বজনের অভিযোগ, আশপাশের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের তুলনায় আল-ইনসাফ ডায়াগনস্টিক সেন্টারে কিছু পরীক্ষার ফি বেশি নেওয়া হচ্ছে। তাদের দাবি, কোনো কোনো পরীক্ষা বাইরে প্রায় ৬০০ টাকায় করা গেলেও একই পরীক্ষার জন্য সেখানে প্রায় ১ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে। রোগীর স্বজনদের অভিযোগ, চিকিৎসক নিয়মিত ওই ডায়াগনস্টিক সেন্টারে বসায় অনেক রোগী চিকিৎসা নিতে সেখানে আসেন। ফলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পরীক্ষা-নিরীক্ষার ক্ষেত্রেও রোগীদের ওই প্রতিষ্ঠানেই পরীক্ষা করানোর চাপ তৈরি হচ্ছে। এতে আর্থিকভাবে অসচ্ছল রোগীদের বাড়তি ব্যয়ের মুখে পড়তে হচ্ছে বলে অভিযোগ তাদের। স্থানীয়দের দাবি, রোগীদের কাছ থেকে পরীক্ষার নির্ধারিত ফি নেওয়া হচ্ছে কি না এবং বাইরে থেকে পরীক্ষা করিয়ে আসা রোগীদের সঙ্গে সিরিয়ালের ক্ষেত্রে বৈষম্য করা হচ্ছে কি না- সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের বিষয়টি খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। বিশেষ করে শিশু ও গুরুতর অসুস্থ রোগীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষায় রাখার অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। অভিযোগের বিষয়ে আল-ইনসাফ ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ম্যানেজার বিল্লাহ বলেন, আমাদের এখানে শিশু চিকিৎসক বসেন। এখানে কিছু পরীক্ষা তুলনামূলক কম হয়। তাই রোগীরা আমাদের প্রতিষ্ঠান থেকে পরীক্ষা করালে ভালো হয়- এ কারণেই আমরা এখানে পরীক্ষা করানোর কথা বলি। তবে বাইরে থেকে পরীক্ষা করিয়ে আসা রোগীদের সিরিয়ালে পিছিয়ে দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কোনো বক্তব্য দেননি। অভিযোগের বিষয়ে চিকিৎসক রবীন তালুকদারের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
ফোন: +৮৮০৯৬১১৪৫১৮৭১
সোশ্যাল মিডিয়াতে আমরা
ই-মেইল: [email protected]