জামালপুর জেলার দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকার পতিত জমি বছরের দীর্ঘ সময় পানিতে নিমজ্জিত থাকায় পানিফল চাষ করে স্বাবলম্বী হচ্ছে।
কৃষকরা বলছে, যেসব জমিতে জলাবদ্ধতার অন্য ফসল ফলানোর সুযোগ না থাকায় পানিফল চাষে লাভবান হচ্ছে। কম খরচে ভালো ফলন পাওয়ায় দিন দিন বাড়ছে এ চাষের আগ্রহ। এর ফলে দেওয়ানগঞ্জের পতিত জমিতে পানিফল চাষ সম্ভাবনাময় কৃষি উদ্যোগ হিসেবে গড়ে উঠতে পারে বলে দাবি কৃষিবিদদের।এছাড়াও পানিফল শুকিয়ে আটা তৈরি করে রুটিসহ বিভিন্ন সুস্বাদু খাবারও তৈরি করা হচ্ছে। এছাড়াও উৎপাদিত ফল প্রক্রিয়াজাত করে গ্লুকোজ তৈরি করা যাবে বলে কৃষিবিদরা আশা করছেন। কৃষকরা জানান, কার্তিক-অগ্রহায়ণ মাসে তাদের হাতে নগদ অর্থ কম থাকায় অসময়ে পানিফল বিক্রি করে যে নগদ অর্থ হাতে পায় কৃষক তাতেই তারা খুশি। পানিফল এখন অর্থকরী ফসলে রূপ নিয়েছে। পানিতে ভাসমান গাছে জন্মায় বলে নাম হয়েছে পানিফল। স্থানীয়ভাবে এটি ‘শিঙাড়া’ নামে পরিচিত। দেখতে দোকানে ভাজা শিঙাড়ার মতো, তাই শিঙাড়া নামে ফলটি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক পরিচিতি পেয়েছে। গাঢ় সবুজ ও খয়েরি রংয়ের এ ফলটি খোসা ছাড়িয়ে খেতে হয়। ভেতরের শাঁস দুধের মতো সাদা, খেতে খুবই সুস্বাদু এবং কোমল ও ঠান্ডা। এলাকার সাধারণ মানুষ ‘শিঙাড়া’ সিদ্ধ করে সকালের নাস্তা হিসাবে খায়। পাকা ‘শিঙাড়া’ সবজি হিসাবেও ব্যবহৃত হয়। রোদে শুকিয়ে মেশিনে অথবা ঢেঁকিতে পানিফলের আটা তৈরি করে রুটি হিসাবেও খাওয়া হয়। জানা গেছে, জামালপুর দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বিস্তীর্ণ জলাশয় ও নিচু জমির পানির উপর সবুজ পাতায় ছেয়ে আছে পানিফলের গাছ। কৃষকেরা পানিতে নেমে পরিপক্ব পানিফল সংগ্রহ করছেন। পরে এসব ফল ঝুড়ি ও বস্তায় করে স্থানীয় বাজারে নিয়ে বিক্রি করা হচ্ছে। কৃষকেরা জানান, আগে দীর্ঘ সময় পানিতে ডুবে থাকা জমিগুলো তেমন কোনো কাজে আসত না। পানিফল চাষ শুরু করার পর সেই জমি থেকেই বাড়তি আয় হচ্ছে। চারা রোপণ ও পরিচর্যায় তুলনামূলক কম খরচ হওয়ায় এ চাষে লাভের সম্ভাবনাও ভালো। কৃষক জামাল উদ্দিন বলেন, ‘আগে এই জমি পড়ে থাকতো। এখন পানিফল চাষ করে এখান থেকে ভালো আয় করতে পারছি। খরচ বাদ দিয়েও লাভ থাকে। বাজারে দাম ভালো থাকলে এ চাষ করে সংসার চালানো সম্ভব।’ পানিফল সংগ্রহ ও বাজারজাতকরণকে ঘিরে স্থানীয়ভাবে কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হয়েছে। কৃষকের পাশাপাশি শ্রমিকরা ফল সংগ্রহ, বাছাই ও পরিবহণের কাজে যুক্ত হচ্ছেন। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রতন মিয়া জানান, যেসব জমি দীর্ঘ সময় পানিতে নিমজ্জিত থাকে, সেসব জমিতে পানিফল চাষের ভালো সম্ভাবনা রয়েছে। কৃষকদের এ চাষে উৎসাহিত করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। কৃষকদের দাবি, উন্নত জাতের চারা সরবরাহ, সহজ শর্তে ঋণ, চাষাবাদে প্রয়োজনীয় পরামর্শ এবং উৎপাদিত পানিফলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা গেলে এ চাষ আরও সম্প্ররিত করা সম্ভব। এছাড়াও জলমগ্ন ও অনাবাদি জমিকে পানিফল চাষের আওতায় আনা গেলে একদিকে যেমন কৃষকের আয় বাড়বে, অন্যদিকে স্থানীয়ভাবে কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হবে।