ইন্ডিয়ান চলচ্চিত্রে নানা পাটেকরের আলাদা পরিচয় তৈরি হয়েছে তার তীব্র অভিনয়, স্বতন্ত্র সংলাপ বলার ধরন এবং বৈচিত্র্যময় চরিত্র নির্বাচনের কারণে। মারাঠি থিয়েটার থেকে উঠে এসে তিনি হিন্দি ও মারাঠি সিনেমায় একের পর এক ভিন্নধর্মী চরিত্রে অভিনয় করেছেন।
কখনো খলনায়ক, কখনো প্রতিবাদী চরিত্র, কখনো পুলিশ কর্মকর্তা, আবার কখনো কমেডি চরিত্রে দেখা গেছে তাকে। তার অভিনীত বেশ কিছু সিনেমা দর্শক ও সমালোচকদের কাছে বিশেষভাবে আলোচিত হয়েছে। সেসবের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি সিনেমা হলো:
‘পরিন্দা’ (১৯৮৯): বিধু বিনোদ চোপড়া পরিচালিত ‘পরিন্দা’ সিনেমায় আন্না চরিত্রে অভিনয় করেন নানা পাটেকর। চরিত্রটিতে ছিল নির্মমতা ও ভয়ংকর এক ধরনের শীতলতা। সেইসঙ্গে আগুনের প্রতি তার চরিত্রের ভয়কে অভিনয়ের মাধ্যমে আলাদা মাত্রা দেন নানা।
এই সিনেমায় অভিনয়ের জন্য সেরা পার্শ্ব অভিনেতা হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান তিনি।
‘ক্রান্তিবীর’ (১৯৯৪): নানা পাটেকরের ক্যারিয়ারের অন্যতম আলোচিত সিনেমা ‘ক্রান্তিবীর’। এতে প্রতাপ নারায়ণ তিলক চরিত্রে অভিনয় করেন তিনি।
সামাজিক অবিচার, দুর্নীতি ও সাম্প্রদায়িক বিভাজনের বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ এক মানুষের চরিত্রে নানার অভিনয় দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে। সিনেমাটির জন্য সেরা অভিনেতা হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ও ফিল্মফেয়ার পুরস্কার পান তিনি।
‘তিরঙ্গা’ (১৯৯৩): রাজকুমার কোহলি পরিচালিত ‘তিরঙ্গা’ সিনেমায় নানা পাটেকর অভিনয় করেন পুলিশ কর্মকর্তা শিবাজিরাও ওয়াগলে চরিত্রে। সিনেমাটিতে তার সঙ্গে অভিনয় করেন রাজকুমার।
নানার শক্তিশালী সংলাপ উপস্থাপন এবং রাজকুমারের সঙ্গে তার দৃশ্যগুলো সিনেমাটির অন্যতম আলোচিত দিক হয়ে ওঠে। অ্যাকশন ও দেশপ্রেমের আবহে নির্মিত সিনেমাটিতে তার অভিনয় দর্শকদের মধ্যে জনপ্রিয়তা পায়।
‘খামোশি: দ্য মিউজিক্যাল’ (১৯৯৬): সঞ্জয় লীলা বানসালির পরিচালনায় নির্মিত ‘খামোশি: দ্য মিউজিক্যাল’ ছিল তার পরিচালিত প্রথম সিনেমা। এতে নানা পাটেকর অভিনয় করেন জোসেফ চরিত্রে, যিনি একজন বাক ও শ্রবণপ্রতিবন্ধী বাবা।
চরিত্রটির আবেগ প্রকাশে সংলাপের চেয়ে মুখের অভিব্যক্তি ও শারীরিক ভাষার ওপর বেশি নির্ভর করতে হয়েছে তাকে। নানার এই অভিনয় তার বহুমাত্রিক অভিনয়ক্ষমতার আরেকটি দিক সামনে আনে।
‘আব তক ছাপ্পান’ (২০০৪): ‘আব তক ছাপ্পান’ সিনেমায় মুম্বাই পুলিশের এনকাউন্টার স্পেশালিস্ট সাধু আগাশে চরিত্রে অভিনয় করেন নানা পাটেকর।
চরিত্রটি ছিল সংযত, কঠোর ও বাস্তবধর্মী। বাড়তি নাটকীয়তার বদলে নিয়ন্ত্রিত অভিনয়ের মাধ্যমে একজন পুলিশ কর্মকর্তার মানসিকতা ও কাজের ধরন তুলে ধরেন নানা। সিনেমাটিতে তার অভিনয় ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়।
‘ওয়েলকাম’ (২০০৭): নানা পাটেকরের ক্যারিয়ারে ‘ওয়েলকাম’ একটি ভিন্নধর্মী সংযোজন। গম্ভীর ও তীব্র চরিত্রের জন্য পরিচিত নানা এখানে উদয় শেঠি চরিত্রে কমেডি অভিনয় করেন।
‘রাজনীতি’ (২০১০): প্রকাশ ঝা পরিচালিত রাজনৈতিক থ্রিলার ‘রাজনীতি’তে নানা পাটেকর অভিনয় করেন ব্রিজগোপাল চরিত্রে। মহাভারতের কৃষ্ণের আদলে নির্মিত এই চরিত্রটি সরাসরি ক্ষমতার কেন্দ্রে না থেকেও রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহে প্রভাব রাখে।
নানা পাটেকরের সংযত ও গম্ভীর অভিনয় চরিত্রটিকে আলাদা করে তুলে ধরে। সিনেমাটির রাজনৈতিক আবহের সঙ্গে তার চরিত্রের কৌশলী ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
‘নটসম্রাট’ (২০১৬): মারাঠি সাহিত্যের জনপ্রিয় নাটক ‘নটসম্রাট’ অবলম্বনে নির্মিত একই নামের সিনেমায় গণপতরাও বেলওয়ালকর চরিত্রে অভিনয় করেন নানা পাটেকর।
একজন অবসরপ্রাপ্ত মঞ্চ অভিনেতার বার্ধক্য, পরিবার, সম্পর্ক ও অভিনয়জীবনের স্মৃতি ঘিরে এগিয়েছে গল্প। চরিত্রটির আবেগ, একাকিত্ব ও মঞ্চের প্রতি টানকে নানা গভীর অভিনয়ের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলেন। সিনেমাটি তার মারাঠি অভিনয়জীবনের অন্যতম আলোচিত কাজ হিসেবে বিবেচিত হয়।
Scale Your Newsportal
Blazing-fast frontend, robust backend & ad monetization ready.
Scale Your Newsportal
Blazing-fast frontend, robust backend & ad monetization ready.