জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশকে অন্তর্বর্তী সরকারের “অন্তহীন প্রতারণার দলিল” হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতার উত্থাপিত মুলতবি প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ১৯৭৩ সালের ৭ এপ্রিলের পর থেকে রাষ্ট্রপতির আদেশ জারির কোনো ক্ষমতা নেই। সংবিধানের চতুর্থ তফসিলের ১৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সেই ক্ষমতা রহিত হয়েছে। “যে আদেশের জন্মই অবৈধ, তার ভিত্তিতে কোনো অধিবেশন আহ্বান করা যায় না। এটি না অধ্যাদেশ, না আইন—বরং একটি প্রতারণার দলিল,” বলেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, সংবিধানের ৭২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি সংসদের অধিবেশন আহ্বান করেছেন। “যখন উপদেষ্টা হিসেবে শপথ নেওয়া হয়েছিল, তখন সংবিধান ও রাষ্ট্রপতি ঠিকই ছিল। এখন সেই একই ব্যবস্থাকে অস্বীকার করা হচ্ছে,” উল্লেখ করেন মন্ত্রী।
প্রধান নির্বাচন কমিশনারের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, সংবিধান রক্ষার শপথ নেওয়ার পরও প্রধান নির্বাচন কমিশনার ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’-এর সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণের ফরম সংসদ সচিবালয়ে পাঠিয়েছেন, যার কোনো আইনগত ভিত্তি নেই।
মন্ত্রী দাবি করেন, এ পদক্ষেপের মাধ্যমে শপথ ভঙ্গ ও সংবিধান লঙ্ঘন করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, “নির্বাচন কমিশন সংসদ সদস্য নির্বাচনের জন্য যে ব্যালট দিয়েছে, সেখানে সংবিধান সংস্কার পরিষদের কোনো উল্লেখ ছিল না। জনগণ আমাদের সংসদ সদস্য হিসেবে ম্যান্ডেট দিয়েছে, কোনো অস্তিত্বহীন পরিষদের সদস্য হিসেবে নয়।”
