৪ শত শিক্ষার্থী ও ১৩ জন শিক্ষক নিয়ে অবকাঠামো সমস্যায় ভুগছে লামার ‘সরই উচ্চ বিদ্যালয়’। ১৯৯১ সালের ১লা জানুয়ারী প্রতিষ্ঠিত হওয়া নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়টি আজ উচ্চ বিদ্যালয়ে রূপ নিয়েছে। দুর্গম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের থেকে আসা কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পদাচারণায় পরিপূর্ণ বিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস। কিন্তু শ্রেণীকক্ষ সহ নানাবিধ সমস্যায় জর্জরিত বিদ্যালয়টি। যেখানে ১০টি শ্রেণীকক্ষ প্রয়োজন, সেখানে রয়েছে মাত্র ৫টি শ্রেণীকক্ষ। প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে উঠতে পারলে মানসম্মত শিক্ষা প্রসারে বিদ্যালয়টি ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছেন বিদ্যালয়ের শিক্ষক, অভিভাবক এবং শিক্ষার্থীরা।
এদিকে বিদ্যালয়ে শ্রেণীকক্ষ সমস্যা নিরসনে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর কর্তৃক ২০২২ সালের ডিসেম্বরে প্রায় ৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ৪ তলা বিশিষ্ট আধুনিক ভবন নির্মাণের কাজ শুরু করে। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স শাহ জব্বারিয়ার সাথে হওয়া চুক্তিপত্র মতে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে কাজটি শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এখনো ভবনের উন্নয়ন কাজ মাত্র ৬০ শতাংশ শেষ হয়েছে। বিদ্যালয়ের কাজের দায়িত্বে থাকা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী নাজমুল হোসেন বলেন, ঠিকাদারের সমস্যার কারণে কাজে বিলম্ব হয়েছে। বেশ কিছুদিন কাজ বন্ধ ছিল। এই সপ্তাহ থেকে নতুন করে কাজ শুরু হয়েছে। আশা করছি আগামী ৬ মাসের মধ্যে কাজটি শেষ করা সম্ভব হবে।
সরজমিনে বিদ্যালয়ে ঘুরে দেখা যায়, শ্রেণীকক্ষ সংকটে নির্মাণাধীন ভবনেই ঝুঁকি নিয়ে শ্রেণী কার্যক্রম চলছে। নবম শ্রেণীর শিক্ষার্থীরা জানায়, তারা ভয়ে ভয়ে ক্লাশ করছে। বৃষ্টি হলেই আর ক্লাশ হয়না। বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক (ইংরেজী) মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম বলেন, পুরাতন দুইটি ভবনে যে কক্ষ রয়েছে তাতে ৫টি শ্রেণীর ক্লাশ সংকুলন হচ্ছেনা। বাধ্য হয়ে অসমাপ্ত ভবনে ঝুঁকি নিয়ে ৩/৪টি রুমে শ্রেণী কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে। এছাড়া বিদ্যালয়ে সুপ্রিয় পানি ও পয়নিষ্কাশন সমস্যা রয়েছে। দুর্গম এলাকার ছেলে-মেয়েরা এখানে পড়তে আসে। স্কুলের আবাসিক ব্যবস্থা আরো বড় করা দরকার। অপ্রতুল সেবার মাঝেও এখন ছাত্রাবাসে ৫ জন ছাত্রী থাকে।
স্কুলের অভিভাবক সামশুল ইসলাম, নুরুন্নাহার বেগম সহ অনেকে জানান, বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের পাঠদানে আরো আন্তরিক হওয়া দরকার। অন্যান্য স্কুল থেকে এখানে পরীক্ষা, ফরম ফিলাপ সহ নানা ফি বেশী। অনেক শিক্ষকরা স্কুল থেকেও কোচিং বাণিজ্যে বেশি জড়িয়েছে। এই স্কুলের এসএসসি শিক্ষার্থীরা অন্য বিদ্যালয়ে গিয়ে পরীক্ষা দিতে হয়। অভিভাবকরা স্কুলে এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্র আনার জোর দাবি করেন। এবছর (২০২৬) ৫৫ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়ার কথা রয়েছে।
সরই উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নীতি পূর্ণ বড়ুয়া বলেন, মানসম্মত মাধ্যমিক শিক্ষা প্রদানের লক্ষ্যে আধুনিক অবকাঠামো এবং আধুনিক শিক্ষাদান পদ্ধতির বিকল্প নেই। আমি ২০০৪ সাল থেকে এই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আছি। অভিভাবক, স্থানীয় প্রশাসন সহযোগিতায় আমরা শিক্ষা মানোন্নয়ন, আধুনিক শিক্ষাদান পদ্ধতি এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার প্রসারে কাজ করে যাচ্ছি।
বান্দরবান জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ জসিম উদ্দিন বলেন, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরকে সরই উচ্চ বিদ্যালয়ের নতুন ভবনের কাজ গুণগত মান ঠিক রেখে দ্রুত শেষ করতে বলা হয়েছে। বিদ্যালয়ে কোচিং বাণিজ্যের সাথে জড়িত শিক্ষকদের ছাড় দেয়া হবেনা।
কুশল/সাএ
