বহুল আলোচিত ২০০ কোটি রুপির আর্থিক জালিয়াতি মামলায় বর্তমানে কারাগারে আছেন সুকেশ চন্দ্রশেখর। দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় থাকা এই মামলায় এবার আদালতে গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্য দিতে পারেন তার কথিত প্রেমিকা অভিনেত্রী জ্যাকুলিন ফার্নান্দেজ। এতে মামলার গতিপথে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গ্রেফতারের পর থেকেই বিভিন্নভাবে জ্যাকুলিনের প্রতি নিজের ভালোবাসার কথা প্রকাশ করে আসছেন সুকেশ। চিঠির মাধ্যমে তিনি দাবি করেছেন, তাদের মধ্যে সম্পর্ক ছিল এবং অভিনেত্রী তার কাছ থেকে কোনো আর্থিক সুবিধা নেননি—শুধু ভালোবাসাই চেয়েছেন।
এই সম্পর্কের জেরে জ্যাকুলিন ফার্নান্দেজের জীবন বেশ ঝঞ্ঝাটপূর্ণ হয়ে উঠেছে। প্রেমিকের কারণে তাকে থানা-পুলিশ ও আদালত পর্যন্ত যেতে হয়েছে। কোটি টাকার আর্থিক প্রতারণা মামলায় জড়িয়ে বলিউডে তার অবস্থানও চাপে পড়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, জ্যাকুলিনের মন জয় করতে সুকেশ যেন নিরলস চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। বর্তমানে দিল্লির মান্ডোলি কারাগারে বন্দি থেকে তিনি প্রায় প্রতিটি বিশেষ দিনেই অভিনেত্রীকে উদ্দেশ্য করে চিঠি লিখছেন এবং বিভিন্ন দামি উপহার পাঠানোর দাবি করছেন। তবে এসবের পরও জ্যাকুলিনের মন গলেনি।
সর্বশেষ ভালোবাসা দিবসেও সুকেশ তাদের সম্পর্ককে রোমিও-জুলিয়েট, হির-রাঞ্জা ও লাইলি-মজনুর মতো কালজয়ী প্রেমের সঙ্গে তুলনা করেন। ১৪ ফেব্রুয়ারির এক খোলা চিঠিতে তিনি জ্যাকুলিনকে ‘বেবি বোম্মা’ বলে সম্বোধন করে লেখেন— লোহার গরাদ ও ঠান্ডা দেয়াল তাদের আলাদা করে রেখেছে, আর তিনি মরুভূমিতে পথ হারানো মানুষের মতো প্রতিটি মুহূর্তে তাকে মিস করছেন।
সুকেশ বলেন, জ্যাকুলিন ও তার পরিবারের জন্য দেওয়া সব উপহারই তিনি স্বেচ্ছায় দিয়েছেন। এমনকি এ মামলায় জ্যাকুলিনের নাম জড়ানোকে তিনি ‘দুর্ভাগ্যজনক’ বলেও উল্লেখ করেন। এবার জ্যাকুলিনের জন্য তিনি একটি বিশেষ সারপ্রাইজ উপহারের ব্যবস্থা করেছেন। সেটি হলো— একটি ‘এয়ারবাস এইচ সিরিজ’ লাক্সারি হেলিকপ্টার।
সুকেশ এর আগে কোটি কোটি টাকার বাড়ি-গাড়ি উপহার তো দিয়েছেনই। জিজ্ঞাসাবাদে সেসব বিলাসী উপহারের কথা অভিনেত্রীও স্বীকার করেছেন। এবার সেই প্রেমিকাই তার বিরুদ্ধে মামলার রাজসাক্ষী হতে যাচ্ছেন। এখন দেখার বিষয়—আদালতে দাঁড়িয়ে সুকেশকে নিয়ে কী ধরনের বক্তব্য দেন জ্যাকুলিন ফার্নান্দেজ। তার সাক্ষ্যই নির্ধারণ করতে পারে এই বহুল আলোচিত মামলার পরবর্তী দিকনির্দেশনা।
কুশল/সাএ
