নিজেদের কার্গো জাহাজ জব্দের পাল্টা জাবাব হিসেবে এবার মার্কিন নৌবাহিনীর একটি যুদ্ধজাহাজে ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান।
সোমবার (২০ এপ্রিল) ইরানের আধা-সরকারি সংবাদসংস্থা তাসনিম নিউজ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
তবে ড্রোন হামলায় জাহাজটির কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কি-না, বা হয়ে থাকলে কতটুকু ক্ষতি হয়েছে, সে বিষয়ে এখনও কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
এর আগে, আরব সাগরে একটি ইরানি পতাকাবাহী কার্গো জাহাজ জব্দ করে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী। রোববার রাতে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে।
সেন্টকম জানায়, তাদের বাহিনী হরমুজে নৌ অবরোধ কার্যকর করার অংশ হিসেবে ওই জাহাজটিকে থামতে একাধিকবার সতর্ক করে। ছয় ঘণ্টা ধরে বারবার সতর্কবার্তা দেওয়ার পরও জাহাজটি নির্দেশনা না মানায় মার্কিন বাহিনী গুলি চালায়।
বিবৃতিতে বলা হয়, মার্কিন নৌবাহিনীর ডেস্ট্রয়ার জাহাজটির ইঞ্জিন রুম খালি করতে নির্দেশ দেয়। এরপর জাহাজটির চলাচল অক্ষম করতে ৫ ইঞ্চি এমকে ৪৫ গান থেকে গুলি ছোড়া হয়, যা জাহাজের ইঞ্জিন রুমে আঘাত করে।
পরে মেরিন সেনারা জাহাজটিতে উঠে সেটির নিয়ন্ত্রণ নেয়। বর্তমানে জাহাজটি মার্কিন হেফাজতে রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, দুটি ঘটনা এমন সময়ে ঘটলে, যখন যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে দ্বিতীয় দফায় আলোচনার টেবিলে বসানোর চেষ্টা করছে মধ্যস্থাকারী দেশ পাকিস্তান।
রোববার হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, ইসলামাবাদে দ্বিতীয় দফা আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে নেতৃত্ব দেবেন দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তবে সেই আলোচনায় অংশ নেওয়ার বিষয়টি এখনো নিশ্চিত করেনি ইরান।
ইরান বলছে, যুক্তরাষ্ট্র নৌ অবরোধ তুলে না নিলে আলোচনায় অংশ নেবে না তেহরান। আর জাহাজ জব্দের ঘটনাকে সশস্ত্র জলদস্যুতা ও যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন বর্ণনা করে পাল্টা জবাব দেওয়ার হুমকিও দিয়েছিল তেহরান।
এদিকে ইরানের জাহাজ জব্দ ও মার্কিন যুদ্ধজাহাজে ইরানি ড্রোন হামলা; দু’পক্ষের মধ্যকার আলোচনা পুনরায় শুরুর প্রচেষ্টাটি আরও কঠিন করে তুলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
সুত্র: তাসনিম নিউজ।
