সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার সলপ ইউনিয়নের সলপ গ্রামে কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে সলপের জমিদারবাড়ি। অট্টালিকার জমিদারি ছোঁয়া থাকলেও এটি অনেকটাই অরক্ষিত। দরজা-জানালার ফ্রেম থাকলেও নেই কোনো কপাট। প্রবেশমুখে নেই কোনো নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, দূর থেকে দেখে মনে হবে- মনোরম পরিবেশে সবুজে ঘেরা একটি বাগানবাড়ি। কাছে গিয়ে দেখা গেল ভগ্নপ্রায় অট্টালিকা। প্রতিটি ঘরের ভেতর ও ছাদে রয়েছে প্রাচীন ঐতিহ্যের অনেক নিদর্শন। পুরোনো ইটের দেওয়ালে রকমারি আগাছা, থরেথরে সাজানো ঝুঁকিপূর্ণ ঘরের ভেতর ঝোপঝাড়। আর সেখানটার পুরোটাই এখন পাখি ও পোকামাকড়ের দখলে।
উপজেলার ঐতিহাসিক সলপের জমিদার বাড়িটি সান্যাল বংশের। সান্যাল বাড়ি ও জমিদার বংশের ইতিহাস প্রায় ২৩০ বছরের পুরোনো। সান্যাল বংশের এই জমিদার বাড়িটি প্রতিষ্ঠিত হয় ১২০৫ বঙ্গাব্দে কাশী দাস সান্যালের মাধ্যমে। পরবর্তীতে ১৩০৪ বঙ্গাব্দের ভূমিকম্পে এটি ক্ষতিগ্রস্ত হলে পরবর্তী সময়ে ১৩৩৩ বঙ্গাব্দে বংশের উত্তরাধিকারী শ্রী সূর্য কমল ভট্টাচার্য এটি পুনর্নির্মাণ করেন। মূল বাড়ি ও অঙ্গিনায় ছিল ঐতিহ্যবাহী কালীবাড়ি ও শিবমন্দির। সূর্য কমলকে কাশী দাস সান্যালের দৌহিত্র নলিনী কান্ত লাহিড়ী এক্সিকিউটর হিসেবে নিযুক্ত করেছিলেন।
নাটোরের রানী ভবানীর অধীনে রাজশাহী অঞ্চলে কিছু সাব জমিদার ছিল। এটি তার মধ্যে অন্যতম। রানী ভবানী এই স্যানাল বাড়িতে কিছু অনুদান দিয়েছিলেন তখন উল্লাপাড়া সিরাজগঞ্জ অঞ্চলটি পাবনার অধীনে ছিল। এই জমিদার পরিবারের পৃষ্ঠপোষকতায় সলপ এলাকায় যাতায়াত সহজ করতে এই জমিদারদের উদ্যোগে সলপ রেলওয়ে স্টেশন স্থাপিত হয় এবং ১৯২২ সালে সলপ স্টেশনের পাশে জমিদারদের অনুপ্রেরণায় সাদেক আলী খান ঘোল তৈরির কারখানা শুরু করেন। জমিদাররা এই ঐতিহ্যবাহী ঘোল খুব পছন্দ করতেন। জমিদারের পৃষ্ঠপোষকতা এখানে রেলওয়ে স্টেশন ও বিখ্যাত ঘোলের ব্যবসা গড়ে ওঠে।
স্থানীয়রা বলেন, জাঁকজমকপূর্ণ প্রাসাদ এখন আর নেই। বিভিন্ন সময় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পর্যটকরা দেখতে আসেন এ জমিদার বাড়ি। এলাকার প্রবীণরা বলছেন- জমিদার বাড়িটি এখন আর আগের মতো নেই। বাড়িটি তার রূপ ও জৌলুস দুটোই হারিয়ে ফেলেছে। এটি সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নেই কোনো পরিকল্পনা। ফলে বাড়িটির প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন খুব কম সময়ের মধ্যে বিলুপ্ত হবে বলে আশঙ্কা করছেন এলাকার সচেতন মহল।
মেরাস সান্যাল বলেন, এই জমিদার বাড়ি আমাদের পৈত্রিক সম্পত্তি, এখানে আমরা থাকি। রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এটা নিশ্চিহ্ন হচ্ছে। এখানে সরকারে কোন অনুদান আসে না। তাই সরকারের কাছে আমাদের আকুল আবেদন এই জমিদার বাড়িটা যেন রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রায়হানুল ইসলাম বলেন, জমিদার বাড়ি উল্লাপাড়া ঐতিহ্য ও ইতিহাস বহন করে। সলপের জমিদার বাড়ির ইতিহাস ও ঐতিহ্যের বিষয়ে প্রত্নতাত্ত্বিক অধিদফতরের সঙ্গে ভবনটি সংস্কারের বিষয়ে কথা বলবো।