
ক্রিকেটার নাঈম হাসান
ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে মারধর ও থানায় নিয়ে হেনস্তার অভিযোগে তার ভাইয়ের করা মামলায় এখনো কোনো আসামিকে গ্রেফতার করা হয়নি। মামলা দায়েরের পর পুলিশের অভিযুক্ত দুই সদস্যের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হলেও প্রশ্ন উঠেছে ফৌজদারি মামলার অগ্রগতি নিয়ে।
এছাড়া এ মামলায় সোহেল হোসেন সরকার নামে পুলিশের এক সোর্সকে আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হলেও তাকে আটকের পর গ্রেফতার দেখানো হয়েছে দুই বছর আগের ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পতনের দিন চট্টগ্রাম পুলিশ লাইনসে হামলা ও অস্ত্র-গোলাবারুদ লুটের ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে করা পৃথক একটি মামলায়।
নাঈম হাসানকে মারধর ও হেনস্তার অভিযোগ এনে গত শনিবার তার ভাই সাব্বির আলম বাদী হয়ে চট্টগ্রামের খুলশী থানায় একটি মামলা করেন। মামলায় খুলশী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া, কনস্টেবল রাসেল চৌধুরী ও পুলিশের সোর্স সোহেল হোসেন সরকারকে আসামি করা হয়।
সোহেল হোসেনকে গ্রেফতারের বিষয়ে আদালতের জিআরও শাখা ও হাজতখানার তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০২৪ সালের ১০ সেপ্টেম্বর খুলশী থানায় করা একটি মামলায় সোহেলকে গ্রেফতার দেখানো হয় (মামলা নম্বর-৬)। গত শনিবার তাকে এ মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করে খুলশী থানা পুলিশ। পরে আদালতের নির্দেশে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট চট্টগ্রাম নগরের সিএমপির দামপাড়া পুলিশ লাইনসে হামলা ও অস্ত্র-গোলাবারুদ লুটের ঘটনায় খুলশী থানায় একটি মামলা দায়ের করেছিল পুলিশ। পুলিশের করা ওই মামলায় ১০ থেকে ১৫ হাজার ব্যক্তিকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়। ওই মামলায় পুলিশের সোর্স সোহেল হোসেনকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।
এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নাঈম হাসানের ভাই মামলার বাদী সাব্বির আলম। তিনি বলেন, মামলায় নাম থাকা পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। আসামিদের আইনের আওতায় আনা না হলে বিচার পাওয়া নিয়ে শঙ্কা রয়েছে।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগ ওঠার পর এসআই শফিকুল ইসলাম ও কনস্টেবল রাসেল চৌধুরীকে খুলশী প্রত্যাহার করে দামপাড়া পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়। পরে তাদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। একই সঙ্গে নাঈম হাসানকে মারধর করে থানায় নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমানকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
এ ঘটনায় সিএমপির গঠিত তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি কাজ করছে। কমিটির প্রধান ও উপ-পুলিশ কমিশনার (পশ্চিম) আলমগীর হোসেন বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।