ঢাকা, মঙ্গলবার ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩
ঢাকা, মঙ্গলবার ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩
দীর্ঘ আট মাস বন্ধ থাকার পর অবশেষে ইউরিয়া উৎপাদনে ফিরলো যমুনা সার কারখানা। উৎপাদন শুরুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক আফাজ উদ্দিন। মঙ্গলবার রাত ৩টা ১০ মিনিটে কারখানাটিতে পুরোদমে দানাদার ইউরিয়া উৎপাদন শুরু হলো। কারখানা সূত্র জানায়, যমুনা সার কারখানায় সবচেয়ে কম গ্যাস লাগে। টন প্রতি ইউরিয়া সার উৎপাদন করতে খরচ হয় ২০ থেকে ২২ হাজার টাকা। আর দেশের বাইরে থেকে সার আমদানি করতে খরচ পড়ে টন প্রতি প্রায় ১ লাখ টাকা। বর্তমানে যমুনা সারকারখানায় দৈনিক ১৩শ থেকে ১৪শ মেট্রিক টন সার উৎপাদন করা যায়। এ পরিমান সারের বাজার মূল্য ৬ থেকে ৭ কোটি টাকা। যমুনা সারকাখানায় প্রতিদিন গড়ে আড়াই থেকে ৩ কোটি টাকার গ্যাসের প্রয়োজন হয়। নিয়মিত সার উৎপাদন করা গেলে প্রতিদিন ৩ কোটি টাকার গ্যাস বিলসহ অন্যান্য খরচ পরিশোধ করেও সরকারের দৈনিক ২ কোটি টাকা লাভ হয়। প্রতি মাসে ৯০ থেকে ১শ কোটি টাকার গ্যাস বিলসহ আনুষঙ্গিক খরচ মিটিয়েও মাসে ৬০ কোটি টাকা লাভ হয় যমুনা সার কারখানায়। কিন্তু কারখানার প্রিজারভেশন ঠিক রাখতে কারখানা বন্ধ থাকলেও ব্রয়লার, পাওয়ার প্লান্টসহ অন্যান্য যন্ত্রাংশ সচল রাখতে প্রতিমাসে ৬ কোটি টাকার উপরে গ্যাসের বিল পরিশোধ করতে হয়। যা পুরোটাই কারখানার লোকসান। আরো যায়, নিরবচ্ছিন্ন সার উৎপাদনের জন্য কারখানায় দৈনিক ৪২ থেকে ৪৩ পিএসআই গ্যাসের প্রয়োজন হয়। কিন্তু বেশ কয়েক বছর ধরে গ্যাসের চাপ স্বল্পতার কারণে কারখানার বিভিন্ন যান্ত্রিক ত্রুটির ফলে সার উৎপাদন নেমে আসে ১২শ মেট্রিক টনে। ঘোড়াশাল-পলাশ ইউরিয়া ফার্টিলাইজার কোম্পানিতে সার উৎপাদন নিরবচ্ছিন্ন রাখতে ২০২৪ সালের ১৫ জানুয়ারি যমুনা সার কারখানায় গ্যাসের চাপ কমিয়ে দেয় তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি। ২০২৫ সালে গ্যাস সরবরাহ পেয়ে কিছুদিন সার উৎপাদন করা হলেও ওই বছরের ১৬ ফেব্রুয়ারী আবারো গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়। এরপর ১৯ সেপ্টেম্বর গ্যাস সরবরাহ দেয়া হলে ২০ তারিখ থেকে সকল প্রস্তুতি শেষে ২৪ তারিখ থেকে উৎপাদনের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু গ্যাসের পর্যপ্ত চাপ না থাকার ফলে দৈনিক আড়াই কোটি টাকার গ্যাস পুড়লেও কোনো উৎপাদন হয়নি। এ অবস্থায় কর্তৃপক্ষ চলতি সপ্তাহে পুরোদমে গ্যাস সরাবরাহ দেয়ার ফলে চাপ বৃদ্ধি পায়। এর ফলে মঙ্গলবার রাত ৩টা ১০ মিনিটে যমুনা সার কারখানায় উৎপাদন শুরু করা হয়েছে। যমুনা সার কারখানার বিভাগীয় প্রধান (অ্যামোনিয়া ও ইউটিলিটি) মো. ফজলুল হক জানান, গ্যাস সংকট, যান্ত্রিক ত্রুটিসহ নানা জটিলতায় দীর্ঘদিন যমুনা সরকারখানায় উৎপাদন বন্ধ ছিলো। গত ১৯ সেপ্টেম্বর সরকারের নির্দেশে কারখানায় গ্যাস সরাবরাহ দিলেও পর্যাপ্ত চাপের অভাবে আমরা উৎপাদনে যেতে পারছিলাম না, সোমবার তিতাস পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ করায় রাত ৩টা ১০ মিনিট থেকে পুরনায় উৎপাদন শুরু করা হয়েছে। জামালপুর, শেরপুর, ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল ও রাজবাড়ীসহ উত্তরাঞ্চলের ২১টি জেলায় সার সরবরাহে এই কারখানাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম এই সার কারখানার দৈনিক ইউরিয়া উৎপাদন ক্ষমতা ১ হাজার ৭০০ মেট্রিক টন। তবে যান্ত্রিক সীমাবদ্ধতার কারণে বর্তমানে প্রতিদিন ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ মেট্রিক টন ইউরিয়া উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে। ১৯৯০ সালে প্রতিষ্ঠিত কারখানাটি ১৯৯১ সাল থেকে দেশের কৃষি খাতে অবদান রেখে আসছে। যমুনা সার কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক আফাজ উদ্দিন উৎপাদন শুরুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, কারখানাটি পুনরায় সচল করতে প্রধানমন্ত্রী, স্থানীয় সংসদ সদস্য ও বিসিআইসির চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতার জন্য আমরা গভীরভাবে কৃতজ্ঞ। উল্লেখ্য, ১৯৯০ সালে প্রতিষ্ঠিত কারখানাটিতে ১৯৯১ সাল থেকে ইউরিয়া সার উৎপাদন হয়ে আসছে। দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম এ সার কারখানার দৈনিক ইউরিয়া উৎপাদন সক্ষমতা ১ হাজার ৭০০ মেট্রিক টন। তবে বর্তমানে যান্ত্রিক সীমাবদ্ধতার কারণে প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ মেট্রিক টন ইউরিয়া উৎপাদন করা সম্ভব হয়।যমুনা কারখানাটিতে উৎপাদন পুনরায় শুরু হওয়ায় উত্তরাঞ্চলে ইউরিয়া সারের সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
ফোন: +৮৮০৯৬১১৪৫১৮৭১
সোশ্যাল মিডিয়াতে আমরা
ই-মেইল: [email protected]