আধুনিক হেডফোনের প্রধান আকর্ষণ হয়ে উঠেছে অ্যাকটিভ নয়েজ ক্যানসেলেশন (এএনসি)। এ প্রযুক্তির সাহায্যে আশপাশের অপ্রয়োজনীয় শব্দ কমিয়ে নিরিবিলি পরিবেশে গান শোনা, ভিডিও দেখা কিংবা কাজে মনোযোগ দেওয়া যায়।
কীভাবে কাজ করে এএনসি
প্রতিটি শব্দই মূলত কম্পনের মাধ্যমে তৈরি হয়। এই কম্পনের ফলে শব্দতরঙ্গ সৃষ্টি হয়, যার নির্দিষ্ট কম্পাঙ্ক বা ফ্রিকোয়েন্সি থাকে। দুটি বিপরীতমুখী শব্দতরঙ্গ পরস্পরের সঙ্গে মিলিত হলে একটি অন্যটির প্রভাব কমিয়ে দিতে পারে। পদার্থবিজ্ঞানে এ ঘটনাকে বলা হয় ডেস্ট্রাকটিভ ইন্টারফেরেন্স।
এএনসি প্রযুক্তি এই বৈজ্ঞানিক নীতিকে কাজে লাগায়। হেডফোনে থাকা একাধিক মাইক্রোফোন চারপাশের শব্দ শনাক্ত করে। গাড়ির ইঞ্জিনের আওয়াজ, মানুষের কথাবার্তা কিংবা অন্যান্য পরিবেশগত শব্দ মাইক্রোফোনে ধরা পড়ে। এরপর হেডফোনের ভেতরে থাকা বিশেষ চিপ এসব শব্দ বিশ্লেষণ করে মূল শব্দতরঙ্গের বিপরীতধর্মী আরেকটি তরঙ্গ তৈরি করে। দুটি তরঙ্গের প্রভাবে বাইরের শব্দের তীব্রতা কমে আসে।
এএনসি হেডফোন ব্যবহারের সুবিধা
এএনসি প্রযুক্তির সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো বাইরের বিরক্তিকর শব্দ কমিয়ে আনা। কোলাহলপূর্ণ কর্মক্ষেত্রেও এ প্রযুক্তি কাজে আসে। আশপাশের শব্দের প্রভাব কম থাকায় কাজে মনোযোগ ধরে রাখা সহজ হয়। বাইরের শব্দের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে হেডফোনের ভলিউম বাড়ানোর প্রয়োজন হয় না বলে তুলনামূলক কম শব্দমাত্রায় অডিও শোনা সম্ভব। এতে অতিরিক্ত শব্দের কারণে শ্রবণশক্তির ক্ষতির ঝুঁকি কমানো যেতে পারে। ফোনে কথা বলার সময়ও নয়েজ ক্যানসেলেশন সুবিধা কাজে আসে।
যেসব অসুবিধা বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন
এএনসি প্রযুক্তি সব ধরনের শব্দ সমানভাবে কমাতে পারে না। বিমানের ইঞ্জিন কিংবা শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের মতো একটানা ও নিচু কম্পাঙ্কের শব্দ কমাতে এটি সবচেয়ে কার্যকর। কিন্তু গাড়ির হর্ন, মানুষের চিৎকার কিংবা হঠাৎ তৈরি হওয়া তীক্ষ্ণ শব্দের ক্ষেত্রে এর কার্যকারিতা তুলনামূলক কম। হেডফোনের মান ও প্রযুক্তিভেদে এএনসি চালু থাকলে অডিওর স্বাভাবিক মানেও কিছুটা পরিবর্তন আসতে পারে। আবার দীর্ঘ সময় এ সুবিধা ব্যবহার করলে কারও কারও কানে চাপ, ব্যথা কিংবা অস্বস্তি অনুভূত হয়। তবে এ প্রযুক্তির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সীমাবদ্ধতা হলো বাইরের পরিবেশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার ঝুঁকি। নয়েজ ক্যানসেলেশন চালু থাকলে আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ শব্দও ব্যবহারকারীর কানে কম পৌঁছাতে পারে।
সূত্র: এনগেজেট ডটকম
টেকবার্তার সঙ্গে যোগাযোগ: [email protected]
সূত্র: প্রথম আলো · তথ্য-প্রযুক্তি





