সিরাজগঞ্জের কাজীপুর উপজেলার চরাঞ্চলের চরচ্ছিনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়- মাজনাবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়-মাজনাবাজী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার কাঁচা সড়কের বেহাল দশায় চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা।
দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় সড়কটির বিভিন্ন স্থানে ভাঙন ও খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুত সড়কটি পাকাকরণসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন এলাকাবাসী।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে কাঁচা সড়কটির অনেক অংশই ভেঙে গেছে এবং সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় খানাখন্দ। এ কারণে প্রতিদিন ঝুঁকি ও দুর্ভোগ মাথায় নিয়ে এই সড়ক দিয়ে চলাচল করেছেন কৃষক, ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষ।
মাজনাবাড়ী গ্রামবাসী জানান, ১৪/১৫ বছর আগে কাঁচা সড়কটি নির্মাণ করা হয়েছিল। এরপর উল্লেখযোগ্য কোনো সংস্কার বা উন্নয়নকাজ হয়নি। সময়ের সাথে সাথে সড়কে যাতায়াতের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। বষা মৌসুমে সড়কের এসব গর্ত পানি জমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে ওঠে এবং চলাচল করা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে।
স্থানীয় অটোরিকশা চালক মোহাম্মদ আলী বলেন, বেহাল কাঁচা সড়কের কারণে যানবাহন নিয়ে চলাচল করতে অনেক কষ্ট হয়। একই সঙ্গে যাত্রীদেরও দুর্ভোগ পোহাতে হয়। দ্রুত সড়কটি পাকাকরণ করা হলে এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের ভোগান্তি কমবে।
মাজনাবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ইয়াছিন আলী, মানিক মিয়া, ইবা আক্তার, আবু সাঈদ জানান, প্রতিদিন এই ভাঙ্গা রাস্তা দিয়ে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করতে হয়। রাস্তা খারাপ হওয়ায় চলাচল অনেক সমস্যা হয়। বিশেষ করে বর্ষার সময় পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে যায়।
মাজনাবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ কামাল উদ্দিন সহ মাজনাবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও চরচ্ছিনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকবৃন্দ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে রাস্তাটি বেহাল অবস্থায় পড়ে আছে। উল্লেখিত বিদ্যালয়ের প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থীরা একমাত্র রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন যাতায়াত করেন। বিভিন্ন সময় জন প্রতিনিধিনের সাথে কথা বলেও কোনো কার্যকর সমাধান আজও হয়নি। জনগণের ভোগান্তি দূরিকরণে যথাযথ কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।
এ বিষয়ে মনসুর নগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) সোনিয়া খাতুন বলেন, রাস্তাটি আমি দেখেছি। এ রাস্তা দিয়ে স্কুল-কলেজ, মসজিদ-মাদ্রাসা, কৃষক, ব্যবসায়ী ও জনসাধারণ যাতায়াত করেন। রাস্তাটির অবস্থা খারাপ। আমি এর আগেও সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি। আবারও কথা বলে দীর্ঘদিনের সমস্যা দূরিকরণে পদক্ষেপ গ্রহন করবেন।