মঙ্গলবার , ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. আন্তর্জাতিক
  4. খেলা
  5. খেলাধুলা
  6. জাতীয়
  7. তথ্য-প্রযুক্তি
  8. দেশজুড়ে
  9. প্রবাস
  10. প্রাকৃতিক দুর্যোগ
  11. বিনোদন
  12. মতামত
  13. রাজনীতি
  14. লাইফস্টাইল
  15. শিক্ষা

কীটনাশকের বিকল্প হিসেবে চাষিদের কাছে জনপ্রিয় হচ্ছে পার্চিং পদ্ধতি


সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬ ১০:৫৪ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

ধানের শীষে পোকামাকড়ের আক্রমণ ঠেকাতে আগে কৃষকের হাত উঠত কীটনাশকের বোতলের দিকে। এখন সেই চিত্র বদলাচ্ছে। ধানখেতে পুঁতে দেওয়া ডাল ও বাঁশের কঞ্চিতে বসছে পোকাখেকো পাখি। তারাই খেয়ে ফেলছে ক্ষতিকারক পোকামাকড় ও তাদের ডিম। ফলে কীটনাশকের ব্যবহার কমিয়ে কম খরচে ফসল রক্ষার নতুন আশায় পার্চিং পদ্ধতির দিকে ঝুঁকছেন কিশোরগঞ্জের আমন চাষিরা।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সরেজমিনে কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, আমন ধানের খেতে বিঘাপ্রতি পাঁচ থেকে ছয়টি করে গাছের ডাল, বাঁশের কঞ্চি, খুঁটি কিংবা ধইঞ্চার ডাল পুঁতে দিয়েছেন কৃষকেরা। এসব ডাল ও কঞ্চির ওপর বসে ফিঙে, শালিক, দোয়েল, বুলবুলিসহ বিভিন্ন পোকাখেকো পাখি। ধানখেতে উড়ে বেড়ানো ক্ষতিকারক পোকামাকড় ধরে খেয়ে ফেলছে তারা।

জমিতে ডাল, খুঁটি বা বাঁশের কঞ্চি পুঁতে পোকাখেকো পাখিদের বসার ব্যবস্থা করে প্রাকৃতিকভাবে ক্ষতিকারক পোকা দমনের এ পদ্ধতিকে বলা হয় পার্চিং।

কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এটি কম ব্যয়বহুল ও পরিবেশবান্ধব একটি পদ্ধতি। এতে কীটনাশকের ব্যবহার কমে যাওয়ায় কৃষকের উৎপাদন খরচ কমে এবং পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ওপর ক্ষতিকর প্রভাবও কমে আসে।

পার্চিং পদ্ধতিতে মূলত পোকাখেকো পাখিদের আকৃষ্ট করা হয়। ফিঙে, শালিক, বুলবুলি, শ্যামা, দোয়েল ও সাতভায়রাসহ বিভিন্ন পাখি এসব পার্চিংয়ে বসে ধানখেতের ক্ষতিকারক পোকামাকড় ধরে খায়। মাজরা পোকা, পাতা মোড়ানো পোকা, চুঙ্গি পোকা, ধানের স্কিপা পোকার মথ, শিষ কাটা লেদা পোকা, সবুজ শুঁড় লেদা পোকা, শুঁড় ঘাসফড়িং, লম্বা শুঁড় ঘাসফড়িং ও উড়চুঙ্গাসহ বিভিন্ন ক্ষতিকারক পোকা এসব পাখির খাদ্যে পরিণত হয়।

সাধারণত রোপা,আমনের জমিতে সার দেওয়ার পর থেকেই বাদামি ঘাসফড়িং বা কারেন্ট পোকা, পাতা মোড়ানো পোকা, চুঙ্গি ও মাজরা পোকার মতো বিভিন্ন ক্ষতিকারক পোকার আক্রমণ দেখা দিতে পারে। এসব পোকা দমনে এতদিন কৃষকেরা মূলত কীটনাশকসহ বিভিন্ন রাসায়নিক উপকরণ ব্যবহার করে আসছিলেন। এতে ফসল উৎপাদনের খরচ বাড়ার পাশাপাশি অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহারের কারণে পরিবেশের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। এমন পরিস্থিতিতে প্রাকৃতিকভাবে পোকা দমনের পার্চিং পদ্ধতি কৃষকদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি করেছে।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকার প্রান্তিক কৃষক আব্দুল মান্নান, আব্দুল কাদির, রহমত আলী, জামাল উদ্দিনসহ কয়েকজন কৃষক বলেন, এলাকার কৃষি উপসহকারী কর্মকর্তাদের পরামর্শে তাঁরা ধানের জমিতে পার্চিং পদ্ধতি ব্যবহার করছেন। জমিতে ডাল বা কঞ্চি পুঁতে দেওয়ার পর সেখানে পাখি বসে নিয়মিত ক্ষতিকারক পোকামাকড় ও পোকার ডিম খেয়ে ফেলে। এতে জমিতে পোকার আক্রমণ কমে এবং আগের মতো ঘন ঘন কীটনাশক প্রয়োগ করতে হয় না।

কৃষকেরা আরও জানান, পার্চিং পদ্ধতি ব্যবহারে আলাদা কোনো বড় খরচ নেই। আশপাশে পাওয়া বাঁশের কঞ্চি, গাছের ডাল কিংবা ধইঞ্চার ডাল দিয়েই এটি তৈরি করা যায়। এতে বাড়তি অর্থ ব্যয় ছাড়াই জমিতে পোকা দমনের ব্যবস্থা করা সম্ভব। একই সঙ্গে পাখির বিষ্ঠা জমিতে জৈব পদার্থ হিসেবে যোগ হওয়ায় মাটির উর্বরতাও বাড়ে।

তবে সব ধরনের পাখি পার্চিংয়ে বসে না। মূলত ফিঙে, শালিক, বুলবুলি, শ্যামা, দোয়েল ও সাতভায়রাসহ পোকা খেয়ে বেঁচে থাকা বিভিন্ন পাখি এসব ডাল বা কঞ্চিতে বসে। কৃষকদের মতে, ধানের জমিতে এসব পাখির উপস্থিতি বাড়লে ক্ষতিকারক পোকার আক্রমণ কমানোর পাশাপাশি কীটনাশকের ওপর নির্ভরতাও কমানো সম্ভব।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এ উপজেলায় আমন ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭ হাজার ৮২৩ হেক্টর। এর মধ্যে হাইব্রিড ৫৪০ হেক্টর, উফশী ৭ হাজার ২৮০ হেক্টর এবং স্থানীয় জাতের ধান ৩ হেক্টর। এর বিপরীতে এ পর্যন্ত হাইব্রিড ৫০০ হেক্টর, উফশী ৪ হাজার ৯৫০ হেক্টর এবং স্থানীয় জাতের ৩ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে। সব মিলিয়ে আবাদ হয়েছে ৫ হাজার ৪৫৩ হেক্টর জমিতে।

তাড়াইল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ বিকাশ রায় বলেন, পার্চিং পদ্ধতি ফসলের ক্ষতিকারক পোকা দমনের একটি কম ব্যয়বহুল ও পরিবেশবান্ধব পদ্ধতি। এ পদ্ধতিতে কীটনাশকের ব্যবহার কমে যাওয়ায় ফসল উৎপাদন খরচও কমে আসে। এ কারণে উপজেলার কৃষকদের মধ্যে পার্চিং পদ্ধতির ব্যবহার বাড়ছে। অনেক কৃষক আমন ধানের ক্ষেতে কীটনাশকের ব্যবহার কমিয়ে সহজ ও লাভজনক এ পদ্ধতিতে পোকা দমন করছেন।

তিনি আরও বলেন, একটি ফিঙে পাখি দিনে কমপক্ষে ৩০টি মাজরা পোকার মথ, ডিম ও পুত্তলি খেয়ে থাকে। ফলে ধানের জমিতে ফিঙেসহ পোকাখেকো পাখির বিচরণ নিশ্চিত করা গেলে ক্ষতিকারক পোকার সংখ্যা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। এজন্য ফসল রোপণের পরপরই জমিতে পার্চিং স্থাপন করা উচিত। কৃষকদের পার্চিং পদ্ধতি ব্যবহারে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।

📰 ঢাকা ইনফো২৪

দেশ-বিদেশের সর্বশেষ খবর, প্রবাসীদের তথ্য ও গুরুত্বপূর্ণ আপডেট

আরও পড়ুন
`);w.document.close();setTimeout(function () { w.focus(); w.print(); }, 500);});});