ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে কুমিল্লার চান্দিনা ও বুড়িচং অংশে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের ঝটিকা মিছিলের ঘটনায় চান্দিনা থানায় ২০০৯ সালের সন্ত্রাস বিরোধী আইনের ৮, ৯, ১০, ১১, ১২ ও ১৩ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
চান্দিনা থানার উপ-পুলিশ পরিদর্শক (এসআই) মিথুন কুমার মন্ডল বাদী হয়ে সোমবার (১ জুন) আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের ১৮ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও ২৫/৩০ জন নেতাকর্মীকে অভিযুক্ত করে ওই মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর পুলিশের জোর তৎপরতা লক্ষ্য করা গেছে। বুধবার (৩ জুন) সন্ধ্যা পর্যন্ত চান্দিনা উপজেলা কৃষকলীগের সহ-সভাপতি ও যুবলীগ নেতাসহ এ পর্যন্ত চান্দিনা ও বুড়িচং উপজেলার আওয়ামী লীগ, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের ১২ জন নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে দুই থানার পুলিশ।
এদিকে এই মামলার ঘটনাস্থল এবং গ্রেপ্তারের বিষয় নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিএনপির অঙ্গ সংগঠন ও এনসিপির নেতাকর্মীরা ভিন্ন ভিন্ন প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সোমবার (১ জুন) রাতে এজাহার নামীয় আসামি বেলাশ্বর গ্রাম থেকে চান্দিনা পৌর যুবলীগের সাবেক সহ-সভাপতি মনির হোসেন (৩৫), মঙ্গলবার (২ জুন) রাতে সন্দেহভাজন হিসেবে উপজেলার এতবারপুর ইউনিয়ন যুবলীগ সভাপতি ও চান্দিনা মহিলা কলেজের শিক্ষক আক্তার হোসেন শাহিন, বুধবার (৩ জুন) সকালে উপজেলার মুরাদপুর বাজারে নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে সন্দেহভাজন হিসেবে উপজেলা কৃষকলীগের সহ-সভাপতি এম.এ.আলী এরশাদ (৪০) কে গ্রেপ্তার করেছে চান্দিনা থানা পুলিশ। এছাড়া এজাহার নামীয় আসামি বুড়িচং উপজেলা ছাত্রলীগ নেতা গাজীপুর গ্রামের মো. কামরুজ্জামান (৩১), উপজেলা মৎস্যজীবী লীগ নেতা দক্ষিণ শ্যমপুর গ্রামের মো. মমিনুল ইসলাম (৪৭), কোরপাই গ্রামের আওয়ামী লীগ নেতা অহিদ মেম্বার (৪২), আবিদপুর গ্রামের আওয়ামী লীগ নেতা রবিউল হাসান (৩৬) সহ গত তিন দিনের পৃথক অভিযানে ১ জন সন্দেহভাজন সহ মোট ১১ জনকে গ্রেপ্তার করে চান্দিনা থানা পুলিশ।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা চান্দিনা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. হুমায়ন কবির জানান, তারা চান্দিনা ও বুড়িচং উপজেলায় পৃথক অভিযান চালিয়ে গত তিন দিনে মোট ১২ জনকে আটক করে কুমিল্লা আদালতে প্রেরণ করেছেন। এর মধ্যে ৩ জন সন্দেহজনক আসামি রয়েছেন। অপর ৯ জন এজাহার নামীয় আসামি।
এদিকে মামলার ঘটনাস্থল ও এজাহারে আসামির নাম নিয়ে চান্দিনা বিএনপির অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী ও এনসিপি নেতাকর্মীরা নিজেদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। উপজেলা ছাত্রদল নেতা সাজ্জাদ হোসেন লিখেছেন- ‘‘বুড়িচং থানার কোরপাই এলাকার আওয়ামী লীগের নেতারা মিছিল করল আর মামলা হয়ে গেল চান্দিনা থানায়। বুড়িচং থানায় মামলা করল না কেন আমি প্রশ্ন রাখলাম চান্দিনার জনগণের কাছে।’’ কুমিল্লা উত্তর জেলা মৎস্যজীবী দলের সদস্য সচিব ফজলুল ছাত্তার লিখেছেন ‘‘আমাদের গ্রামের কাউকে হয়রানিমূলক মামলায় আসামি করতে হলে আমার সাথে বা দলীয় নেতাদের সাথে আলোচনা করা অতীব জরুরি। না হয় রাজনীতি থেকে ইস্তফা দেওয়াই উত্তম হবে। এনসিপি নেতা গাজী আলাউদ্দিন লিখেছেন রাজনৈতিক নামে মানুষকে ব্যবহার করে দুর্নীতি চাঁদাবাজি করবেন। ক্ষমতা অপব্যবহার করে কাউকে গ্রেপ্তার কিংবা মামলা বাণিজ্য করবেন তাহলে ধরে রাখুন আপনার জন্য সবকিছু অপেক্ষা করছে।’’
এ ব্যাপারে চান্দিনা থানার অফিসার ইন-চার্জ (ওসি) মো. আতিকুর রহমান জানান, ঘটনাস্থল চান্দিনা উপজেলার বড়গোবিন্দপুর। এখানে এসে তারা সমাবেশ করেছিলেন। তাই চান্দিনা থানায় মামলা হয়েছে। তিনি আরও জানান, আসামিদের কুমিল্লা আদালতের মাধ্যমে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।
কুশল/সাএ