গাইবান্ধা: জেলার সাঘাটায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কমিটি নিয়ে দ্বন্দ্বে সাইফুল্লাহ বারী (২৪) নামে এক ছাত্রশিবির নেতাকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন তার বন্ধু সালাউদ্দিন (৩০)।
রোববার (২১ জুন) বিকেলে উপজেলার বোনারপাড়ার চার মাথা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। বোনারপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নাসিরুল আলম স্বপন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নিহত সাইফুল্লাহ বারী বোনারপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রশিবিরের সভাপতি ছিলেন। তিনি ওই ইউনিয়নের শিমুল তাইর গোরস্থানপাড়া গ্রামের হবিবার রহমান মওলানার ছেলে ও রংপুর ধাপের সাতগড়া মডেল কামিল মাদরাসা তৃতীয় বর্ষের আল কুরআন বিভাগের ছাত্র ছিলেন। গুরুতর আহত সালাউদ্দিন একই ইউনিয়নের ফুটানি বাজার এলাকার দুদু মিয়ার ছেলে।

অপরদিকে অভিযুক্ত মুকুল ও পলাশ আপন দুই ভাই। তারা একই ইউনিয়নের বাটি গ্রামের জাহিদুল ইসলামের ছেলে। মুকুল বোনারপাড়া ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সভাপতি। তবে বর্তমানে বহিষ্কৃত বলে জানা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী-নিহতদের স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বোনারপাড়া বাজারের (উপজেলা চত্বরে) চারমাথা চত্বরে কচুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির বিষয় নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে বোনারপাড়া ইউনিয়নের সাবেক যুবদল সভাপতি মুকুল ও তার ভাই পলাশ শিবির সভাপতি সাইফুল্লাহ বারীর ওপর হামলা করে। পরে মুকুলের ছোট ভাই পলাশ সাইফুল্লাহ বারীর গলায় লোহার শাবল দিয়ে সজোরে আঘাত করে। এ সময় সাইফুল্লাহ বারীর সঙ্গে থাকা তার বন্ধু সালাউদ্দিনকেও (৩০) তারা ছুরিকাঘাত করেন। পরে স্বজনরা প্রচণ্ড রক্তক্ষরণ হওয়া সাইফুল্লাহ বারীকে উদ্ধার করে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
অন্যদিকে গুরুতর আহত সালাউদ্দিনকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতাল এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য বগুড়া শহিদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ঘটনাস্থলে থাকা নিহত শিবির সভাপতির বন্ধু মোবাশ্বের বলেন, কচুয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমার চাচা হাবিবুল্লাহ। দীর্ঘদিন থেকে ওই স্কুলে কমিটি নেই। সম্প্রতি স্কুলে কমিটি গঠনের কথা চলছিল। আজ বিকেলে আমার চাচা (প্রধান শিক্ষক হাবিবুল্লাহ) বোনারপাড়া বাজারে চা খাচ্ছিলেন। এ সময় মুকুল-পলাশসহ বেশ কয়েকজন এসে কমিটির বিষয় নিয়ে চাচার সঙ্গে খারাপ ব্যবহারসহ গালিগালাজ করেন। পরে বিষয়টি জানতে পেরে আমরা কয়েকজন বাজারে আসি। পরে উভয়পক্ষের মধ্যে তর্কবিতর্ক হলে স্থানীয়রা দুই দলকেই সরিয়ে দেন। কিন্তু চলে যাওয়ার সময় তারা ধাওয়া দিয়ে পরিকল্পিতভাবে ছুরি নিয়ে এসে মুকুল ও তার ভাই পলাশ শিবির সভাপতি সাইফুল্লাহ বারীর ওপর হামলা করে। শাবলের আঘাতে সাইফুল্লাহ বারীর গলা ক্ষত-বিক্ষত করে দেয়।
এদিকে হামলার ঘটনায় প্রতিবাদে ফুঁসছে পুরো সাঘাটা উপজেলা। এরইমধ্যে জামায়াত-শিবির নেতারা যৌথভাবে থানা ঘেরাও করার হুমকি দিয়েছে।
সাঘাটা থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) পবিত্র কুমার বলেন, খুনের ঘটনায় পুলিশের কয়েকটি টিম কাজ করছে। প্রকৃত ঘটনা তদন্তসহ জড়িতদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।