
বিশাল জয়ে নকআউট পর্বে ওঠার পথে এগিয়ে রইল রোনাল্ড কুমানের দল।
দারুণ সব আক্রমণে প্রতিপক্ষের রক্ষণে বারবার ভীতি ছড়াল সুইডেন, যদিও আগের ম্যাচের মতো ফিনিশিংয়ে কার্যকর হতে পারল না তারা। অন্যদিকে, দুই অর্ধের শুরুতে দুইবার করে জালে বল পাঠিয়ে লড়াইয়ের নিয়ন্ত্রণ নিল নেদারল্যান্ডস। তাই ম্যাচে রোমাঞ্চ ছড়ালেও, ফল নিয়ে তেমন কোনো নাটকীয়তা হলো না।
হিউস্টনের দর্শকে ভরা স্টেডিয়ামে দুটি করে গোল করলেন ব্রায়ান ব্রবি ও কোডি গাকপো। শনিবার রাতের ম্যাচটি ৫-১ গোলে জিতে, ‘এফ’ গ্রুপ থেকে নকআউট পর্বে ওঠার পথে এগিয়ে রইল রোনাল্ড কোম্যানের দল নেদারল্যান্ডস। তাদের আরেক গোলদাতা সামারভিল। দুই ম্যাচে একটি করে জয় ও ড্রয়ে ৪ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে উঠল নেদারল্যান্ডস। ৩ পয়েন্ট নিয়ে তিনে আছে সুইডেন। ৪ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে জাপান, তিউনিসিয়ার এখনও পয়েন্টের খাতা খুলতে পারেনি। এই দুই দল অবশ্য একটি করে ম্যাচ কম খেলেছে।
পজেশন রাখায় দুই দলই ছিল সমানে-সমান। আক্রমণ যদিও বেশি করে সুইডেন, গোলে শটও তারা নেয় বেশি। কিন্তু তাদের ব্যর্থতার ভিড়ে আসল কাজটা করেছে নেদারল্যান্ডস। গোলের জন্য ১৬ শট নিয়ে আটটি লক্ষ্যে রাখতে পারে সুইডেন। আর সবশেষ ২০১০ বিশ্বকাপের রানার্সআপরা ১০ শট নিয়ে সাতটি লক্ষ্যে রাখতে পারে। সুইডিশদের দারুণ সব শট দুর্দান্ত সেভ করে ব্যবধান গড়ে দেওয়ার আরেক ডাচ নায়ক বার্ট ভেরব্রুহেন।
জাপানের বিপক্ষে দুইবার এগিয়ে গিয়েও জিততে না পারা ডাচরা এদিন শুরুটা করে দুর্দান্ত। ব্রবির নৈপুণ্যে প্রথম কুলিং ব্রেকের আগেই দুই গোলে এগিয়ে যায় তারা। প্রথম গোলের দেখা মেলে পঞ্চম মিনিটে। বাঁ দিক দিয়ে আক্রমণে উঠে কোডি গাকপো বল বাড়ান ছয় গজ বক্সে, আর প্রতিপক্ষের দুই জনের মাঝ দিয়ে ছুটে নিখুঁত শটে দলকে এগিয়ে নেন সান্ডারল্যান্ড ফরোয়ার্ড ব্রবি।
এক মিনিট পরই সমতায় ফেরার দারুণ সুযোগ তৈরি করে প্রথম ম্যাচে তিউনিসিয়াকে ৫-১ গোলে উড়িয়ে দেওয়া সুইডেন। তবে ভিক্তর ইয়োকেরেশের শট কর্নারের বিনিময়ে ঠেকিয়ে দেন ভেরব্রুহেন। চলতে থাকে আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণ, এর মাঝেই ১৭তম মিনিটে দ্বিতীয় গোল পেয়ে যায় বিশ্বকাপে তিনবারের রানার্সআপরা। এবার ডান দিক থেকে আক্রমণ শাণায় তারা। ডেনজেল ডামফ্রিসের পাস সামনে একজনের পায়ে লেগে চলে যায় গোলমুখে, আর স্লাইড করে গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন ব্রবি।
জাতীয় দলের হয়ে আগের ১৩ ম্যাচে একবার জালের দেখা পেয়েছিলেন ব্রবি। এবার এক ম্যাচেই করলেন সেটার দ্বিগুণ। দুই গোল হজমের পর, আক্রমণে জোর দেয় সুইডেন। তৈরি করতে থাকে একের পর এক সুযোগ। দারুণ কয়েকটি সেভ করে ব্যবধান ধরে রাখেন ভেরব্রুহেন। অনেক সুযোগ হারানোর মাঝে ৪৫তম মিনিটে একবার জালে বল পাঠাতে পারে সুইডিশরা; কিন্তু অফসাইডে ছিলেন কয়েকজন। বিরতির ঠিক আগে মিডফিল্ডার ইয়াসিন আইয়ারির শটও ফিরিয়ে দিয়ে, দলকে দুই গোলের ব্যবধানে এগিয়ে রাখেন ভেরব্রুহেন।
প্রথম কুলিং ব্রেক সুইডেনের জন্য হয়েছিল ইতিবাচক, যদিও সুযোগ নষ্টের মিছিলে ব্যবধান কমাতে পারেনি তারা। আর মাঝের বিরতির পরপরই, দ্রুত আরও দুটি গোল করে জয়ের পথে এগিয়ে যায় নেদারল্যান্ডস। ৪৭তম মিনিটের এই গোলটিও প্রায় একই ধরনের। প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভেঙে ডি-বক্সে ঢুকে, ডান দিক থেকে দূরের পোস্টে পাস বাড়ান ইন্টার মিলানের রাইট-ব্যাক ডামফ্রিস, আর ছোট্ট বাকি কাজ সারেন গাকপো।
তৃতীয় গোল হজমের পর ক্ষণিকের জন্য যেন কিছুটা এলোমেলো হয়ে পড়ে সুইডেন, আর তখনই চার নম্বর গোলটি করে ডাচরা। প্রতিপক্ষের আরেকটি ব্যর্থ আক্রমণ রুখে পাল্টা আক্রমণ শাণায় তারা। সামারভিলের পাস ধরে ডি-বক্সে ঢুকে একজনকে কাটিয়ে প্লেসিং শটে চতুর্থ গোলটি করেন লিভারপুল ফরোয়ার্ড গাকপো। বিশ্বকাপে তার গোল হলো পাঁচটি (২০২২ আসরে করেছিলেন তিনটি)। জাতীয় দলের হয়ে ২৭ বছর বয়সী এই ফুটবলারের মোট গোল ২৩টি।
পরের মিনিটেই একসঙ্গে তিনটি পরিবর্তন করেন সুইডেন কোচ এবং মাঠে নামার পাঁচ মিনিটের মধ্যে দারুণ এক গোলে ব্যবধান কমান এলাঙ্গা। ৫৯তম মিনিটে আলেকসান্দার ইসাকের দারুণ এক থ্রু বল ধরে, সবাইকে পেছনে ফেলে ডি-বক্সে ঢুকে জোরাল শটে ঠিকানা খুঁজে নেন নিউক্যাসল ইউনাইটেডের ফরোয়ার্ড।
নির্ধারিত সময়ের ছয় মিনিট বাকি থাকতে সুইডিশদের আরও একটি আক্রমণ এবং ভেরব্রুহেনের আরেকটি দারুণ সেভ। এবার ২৫ গজ দূর থেকে ইসাকের জোরাল উঁচু শটটি ঝাঁপিয়ে বাইরে পাঠান তিনি। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে বদলি নামার পর থেকে দারুণ খেলেন সামারভিল। শেষ দিকে এসে পেয়ে যান গোলও। আরেক বদলি ফরোয়ার্ড মেমফিস ডিপাইয়ের পাস পেয়ে গোলটি করেন ওয়েস্ট হ্যাম ইউনাইটেডের এই উইঙ্গার।
জাপানের বিপক্ষে ২-২ ড্র ম্যাচেও শেষ গোলটি করেছিলেন সামারভিল। শেষ রাউন্ড আগামী শুক্রবার ভোরে তিউনিসিয়ার মুখোমুখি হবে নেদারল্যান্ডস। একই সময়ে লড়বে জাপান ও সুইডেন।