টানা বৃষ্টিতে আনোয়ারার শাহাদাত নগরে ঘরবাড়ি পানিতে তলিয়ে
আনোয়ারা (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

X
ছবি: প্রতিনিধি
টানা ভারী বৃষ্টিতে আনোয়ারা উপজেলার শাহাদাত নগরে ঘরবাড়ি পানিতে তলিয়ে গেছে। এছাড়া পানির নিচে তলিয়ে গেছে ফসলি জমি ও মাছের পুকুর। জলাবদ্ধতার কারণে স্থানীয় বাসিন্দারা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
এলাকাবাসীর দুর্ভোগের যেন শেষ নেই। তাঁরা দুর্বিষহ জীবনযাপন করছেন। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
আনোয়ারা উপজেলার বৈরাগ ইউনিয়নের শাহাদাত নগর একটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকা। সেখানে দিন দিন বসতবাড়ির সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। শিল্পকারখানা এলাকা হওয়ায় অনেকেই বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস করছেন। পারকি বিচ সড়ককে ঘিরে বহু ঘরবাড়ি গড়ে উঠেছে। কিন্তু বৃষ্টি হলেই বসবাসকারীদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছে। পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় এলাকাটি প্রায়ই জলাবদ্ধতায় প্লাবিত হয়। জমে থাকা পানিতে বিভিন্ন পানিবাহিত রোগও দেখা দেয়।
এদিকে টানা চার দিনের ভারী বর্ষণে এলাকাটি বন্যার রূপ নিয়েছে। বসতঘরে পানি ঢুকে পড়েছে। কয়েকশ ঘরবাড়ি পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। চলাচলের রাস্তা, ফসলি জমি ও মাছের পুকুর ডুবে গেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, পানি নিষ্কাশনের স্বাভাবিক পথ সংকুচিত হয়ে পড়েছে। ফলে জলাবদ্ধতায় ঘরবাড়িতে পানি জমে রয়েছে। স্থানীয়দের দুর্ভোগের শেষ নেই।
স্থানীয় বাসিন্দা দিল মোহাম্মদ জানান, বৃষ্টি হলেই এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। অপরিকল্পিতভাবে স্থাপনা নির্মাণের কারণে পানি নিষ্কাশনের পথ সংকুচিত হয়ে গেছে। এতে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে।
স্থানীয়দের দাবি, খতিয়ান অনুযায়ী নয়নজুলি খালের স্লুইসগেট বন্ধ রয়েছে। এছাড়া প্রভাবশালীরা পানি চলাচলের মুখে থাকা কালভার্ট ভরাট করে দেওয়ায় এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে।
বাবুল নামে এক বাসিন্দা জানান, দীর্ঘদিন ধরে জলাবদ্ধতার কারণে তারা চরম কষ্টে জীবনযাপন করছেন।
এদিকে স্থানীয়দের আশঙ্কা, জলাবদ্ধতার কারণে যে কোনো সময় বড় ধরনের জনদুর্ভোগ বা অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা ও স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।