ডাক্তার বলেছে আর মাত্র পাঁচ বছর বাঁচব: তানিয়া বৃষ্টি

ডাক্তার বলেছে আর মাত্র পাঁচ বছর বাঁচব: তানিয়া বৃষ্টি

মস্তিষ্কে টিউমার শনাক্ত, একাধিক অস্ত্রোপচার, রেডিওথেরাপি ও লাইফ সাপোর্টের মতো কঠিন অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গেছেন ছোট পর্দার অভিনেত্রী তানিয়া বৃষ্টি। দীর্ঘ প্রায় ১০ মাস চিকিৎসা ও শুটিং থেকে দূরে থাকার পর আবারও ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়েছেন তিনি। অভিনয়ে ফিরতে পেরে নিজের অনুভূতিকে ‘দ্বিতীয় জন্ম’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন এই অভিনেত্রী।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে অসুস্থতা, চিকিৎসার অভিজ্ঞতা ও কাজে ফেরার গল্প তুলে ধরেন তানিয়া বৃষ্টি। তিনি জানান, সৃষ্টিকর্তার কৃপায় আগের তুলনায় এখন অনেকটাই ভালো আছেন। স্বাভাবিকভাবে খাওয়া-দাওয়া, হালকা ব্যায়াম ও পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে পারছেন।

অস্ত্রোপচারের পর তাঁকে নানা শারীরিক জটিলতার মুখোমুখি হতে হয়েছে। মাথার ডান পাশের সমস্যার কারণে বাঁ দিকে কাত হয়ে ঘুমাতে পারতেন না। এ ছাড়া প্রচণ্ড দুর্বলতা, মাথা ঘোরা ও নিয়মিত বমির সমস্যাও ছিল। রেডিওথেরাপির ধাপ শেষ করে এখন ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার চেষ্টা করছেন তিনি।

প্রায় ১০ মাস বিরতির পর ইকসান রনির পরিচালনায় ‘অংশীদার’ নাটকের মাধ্যমে শুটিংয়ে ফিরেছেন তানিয়া। এতে ‘সুমি’ চরিত্রে অভিনয় করছেন তিনি। নাটকের গল্পে বাবার মৃত্যুর পর পারিবারিক সম্পত্তি ও আর্থিক লেনদেন নিয়ে চাচার সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়ে চরিত্রটি।

অভিনেত্রী জানান, দীর্ঘদিন শুটিং থেকে দূরে থাকায় কাজের পরিবেশ ও সহকর্মীদের খুব মিস করছিলেন। তাঁর কাছে সহকর্মীরা পরিবারের সদস্যদের মতো। তাই কাজে ফিরে মানসিকভাবেও স্বস্তি পাচ্ছেন। প্রথম দিনের শুটিংয়ে পরিচালক, ক্যামেরাম্যান ও প্রযোজনা দলের সদস্যরা তাঁর শারীরিক অবস্থার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে সহযোগিতা করেছেন।

তবে এখনো পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ওঠেননি তিনি। চলমান কেমোথেরাপির কারণে শুটিং করলে শারীরিক জটিলতা বাড়তে পারে বলে চিকিৎসকেরা শুরুতে তাঁকে কাজে ফেরার অনুমতি দিতে চাননি। পরে অনুরোধের পর একটি নাটকে অভিনয়ের অনুমতি পান। তাঁর এখনো দুই মাসের কেমোথেরাপি বাকি। চিকিৎসা শেষ হলে এমআরআই ও সিটি স্ক্যানের মাধ্যমে মস্তিষ্কের টিউমারের বর্তমান অবস্থা পরীক্ষা করা হবে।

তানিয়া বৃষ্টির অসুস্থতার শুরু গত বছরের ডিসেম্বরে। একটি নাটকের শুটিং চলাকালে হঠাৎ তীব্র মাথাব্যথা শুরু হয় তাঁর। অসুস্থতা নিয়েই টানা চার দিন কাজ চালিয়ে যান। পঞ্চম দিনে বমির সমস্যা বেড়ে গেলে তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরদিন পরীক্ষার প্রতিবেদনে মস্তিষ্কে টিউমার শনাক্ত হয়।

প্রথমদিকে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সুস্থ হয়ে ওঠার আশা করেছিলেন অভিনেত্রী। তবে ভারতের চেন্নাইয়ের এমজিএম হাসপাতালের এক অনকোলজিস্ট তাঁকে জানান, তাঁর আয়ু হয়তো আর সাড়ে চার থেকে পাঁচ বছর হতে পারে। এ খবর তাঁকে মানসিকভাবে ভেঙে দেয়।

প্রথম অস্ত্রোপচারের আগে পরিবারের সদস্য ও সহকর্মীদের সঙ্গে বিদায়ের মতো করে কথা বলেছিলেন তিনি। পরে দ্বিতীয় অস্ত্রোপচারের সময় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে তাঁকে লাইফ সাপোর্টে রাখতে হয়। জ্ঞান ফেরার পর আইসিইউর পরিবেশ দেখে আতঙ্কিত হলেও পাশে মা ও বোনকে পেয়ে সাহস ফিরে পান।

অসুস্থতার পুরো সময়ে মায়ের সেবা ও পরিবারের সদস্যদের প্রার্থনা তাঁকে মানসিক শক্তি জুগিয়েছে। পাশাপাশি নাট্যাঙ্গনের সহকর্মী মোশাররফ করিম, নিলয় এবং প্রযোজক আলী বশীরসহ অনেকেই নিয়মিত তাঁর খোঁজখবর নিয়েছেন।

অসুস্থতার সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর মৃত্যুর গুজবও ছড়িয়ে পড়ে। সেই কঠিন সময় পেছনে ফেলে এখন নতুন করে জীবন ও ক্যারিয়ার সাজানোর স্বপ্ন দেখছেন তানিয়া। ২০১২ সালে ভালোবাসা থেকেই অভিনয়জগতে পা রেখেছিলেন তিনি। দীর্ঘ বিরতির পর আবারও সেই জগতে ফিরতে পেরে আনন্দিত এই অভিনেত্রী।

ক্যানসারসহ জটিল রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের উদ্দেশে তানিয়া বলেন, রোগের নাম শুনেই যেন কেউ মানসিকভাবে ভেঙে না পড়েন। মনোবল ধরে রাখা, চিকিৎসকের নির্দেশনা মেনে চলা, সঠিক খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখা এবং পরিবারের সঙ্গে ইতিবাচক সময় কাটানো জরুরি।

ঢাকা ইনফো ২৪ একটি বহুমুখী তথ্য বাতায়ন যেখানে আপনি পাবেন ব্রেকিং নিউজ, লাইফস্টাইল গাইড এবং ক্যারিয়ার বিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ সব আপডেট। আপনার প্রতিদিনের তথ্যের চাহিদা মেটাতে আমরা আছি আপনার পাশে।

সূত্র: Daily Bangladesh · বিনোদন